কদমতলা বাজারে দুঃসাহসিক চুরি! নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসন ও নৈশ প্রহরী!!

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৫ জুলাই , ২০২৬: উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানা এলাকায় একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক অপরাধের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে কদমতলা ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে থানা ঘেরাও ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল বাড়ানো এবং ঘটনাগুলির যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ।

এরই মধ্যে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল কদমতলা বাজারের সর্নপট্টি এলাকায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাসুদেব জুয়েলার্সে চোরের দল হানা দেয়। অভিযোগ, দোকানের পিছনের একটি ছোট ঘরের টিনের ছাউনি কেটে ভিতরে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। এরপর মূল কক্ষের তিনটি তালা ভেঙে লকার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে লকারটি খুলতে না পেরে সেটি দোকানের পেছনের জানালার পাশে ফেলে রেখে যায়। শেষ পর্যন্ত লকারে থাকা মূল্যবান সামগ্রী নিতে না পারলেও রুপোর অলঙ্কার এবং অল্প পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

দোকানের মালিক বরণ কান্তি নাথ জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি ফিরে যান। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে দোকান খুলতে এসে দেখেন ভেতরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দোকানের পিছনের টিনের ছাউনি কেটে চোরেরা ভিতরে প্রবেশ করেছে। ঘটনার পর তিনি কদমতলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ রাতের পাহারাদারদের নামের তালিকা-সহ অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেয়। যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, কদমতলা বাজারে প্রতিদিন রাতেই বেসরকারি পাহারাদারের ব্যবস্থা থাকে এবং পুলিশের টহলও চলে। তা সত্ত্বেও কীভাবে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত কোনো ঘটনারই সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। ফলে বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জানমাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কদমতলা বাজারসহ গোটা এলাকায় রাতের পুলিশি টহল আরও জোরদার করতে হবে।

Leave a Comment