জিতেন্দ্র চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বললো ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন, ত্রিপুরা শাখা’

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ জুলাই , ২০২৬: IPS অফিসারকে “ইডিয়ট” বলায় ত্রিপুরার অফিসার সংগঠনের নিন্দা। অল ইন্ডিয়া সার্ভিস এসোসিয়েশন ত্রিপুরা চাপ্টার দাবি করেছে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে অবিলম্বে তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন, ত্রিপুরা চ্যাপ্টার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা শ্রী জিতেন্দ্র চৌধুরী কর্তৃক করা অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তাকে “ইডিয়ট” বলে সম্বোধন করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং একজন সাংবিধানিক পদাধিকারীর কাছ থেকে এমন ভাষা প্রত্যাশিত নয়।

বুধবার বিলোনিয়া মহকুমা চোত্তাখলায় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে বাদল শীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদান দিবস কর্মসূচি করতে চেয়েছিল বামেরা। কিন্তু কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মাঝ রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে কর্মসূচি বানচাল করতে দাঁড়িয়ে থাকে দুর্বৃত্তরা। মিছিল এগিয়ে আসতে বিরোধী দলনেতাকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখায় জড়ো হওয়া দুর্বৃত্তরা। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে বামেদের মিছিল মাঝরাস্তায় রুখে দেয়। তখন পরিস্থিতির উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তখন সেখানে উপস্থিত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জেলা পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলেন, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশককে কর্মসূচি সম্পর্কে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে আসলে কেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হল? তখন জেলা পুলিশ সুপার কোন উত্তর দিতে পারেননি বিরোধী দলনেতার। একে চিত্র প্রত্যক্ষ করা গেছে দুদিন আগে কালা ছড়া ব্লক এলাকায়। সেখানেও সিপিআইএমের মিছিল রুখে দিয়েছিল পুলিশ। শাসক দলের কর্মসূচির জন্য অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করতে পারল না বামেরা। এমনটাই অভিযোগ উঠেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার আইন অনুযায়ী নিজের সরকারি দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সৎ উদ্দেশ্যে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে জনসাধারণের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে এবং পুলিশ বাহিনী ও সিভিল সার্ভিসের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জন প্রতিনিধিদের সরকারের নীতি ও কার্যকলাপের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই শালীন ও সম্মানজনক হওয়া উচিত এবং কোনো ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপমানজনক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক অতীতে বিরোধী দলনেতা রাজ্য সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও প্রমাণবিহীন ও আপত্তিকর অভিযোগ করেছেন। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বারবার ব্যক্তিগত আক্রমণ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পরিচয় দেয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মনোবল ক্ষুণ্ন করে। অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন, ত্রিপুরা চ্যাপ্টার শ্রী জিতেন্দ্র চৌধুরীর কাছে তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল জনপ্রতিনিধিকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পরিচালনার স্বার্থে শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

রথযাত্রা সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে: রাজ্যপাল, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক: মুখ্যমন্ত্রী