অনলাইন ডেস্ক, ১৬ জুন, ২০২৬: ‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমের সূচনা করেন লোকসভার অধ্যক্ষ শ্রী ওম বিড়লা; অনুষ্ঠানটি হয় ‘সংবিধান সদন’-এর সেন্ট্রাল হলে। কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডভিয়ার নেতৃত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের ৭৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত তরুণ প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে একত্রিত হন এবং ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর লক্ষ্য ও ভাবনা নিয়ে তাঁদের নিজস্ব ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
লোকসভার স্পিকার শ্রী ওম বিড়লা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের বাস্তবায়নে দেশের যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শ্রী বিড়লা ভারতের যুবসমাজকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, উদ্যমী এবং বড় স্বপ্নের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “একটি উন্নত জাতির ভবিষ্যতের পিছনে ভারতের যুবসমাজই হল সর্ববৃহৎ শক্তি।”
তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের যুবসমাজ বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আজ গোটা বিশ্ব ভারতের যুবসমাজকে আশা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখছে।”
তিনি বলেন, “বিকশিত ভারতের স্বপ্ন হলো ১৪০ কোটি ভারতবাসীর একটি যৌথ জাতীয় সংকল্প।” তিনি আরও বলেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব মূলত আজকের যুবসমাজের কাঁধেই ন্যস্ত।
কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডভিয়াও অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং দেশ গঠনে যুবসমাজের রূপান্তরমূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
বিকশিত ভারতের ভাবনার কথা উল্লেখ করে, ডঃ মান্ডভিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারতের কল্পনা করেছেন, যখন দেশ স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে।
তিনি বলেন যে, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নীচে এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণরা যদি সম্মিলিতভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, তবে তাঁরা দেশের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজে বার করতে পারবেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, দেশ গঠনে অবদান রাখার লক্ষ্যে এক লক্ষ তরুণ নেতাকে প্রস্তুত করতে হবে। যুব বিষয়ক মন্ত্রক এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।”
ড. মান্ডভিয়া ‘মাই ভারত’ (MY Bharat)-এর আওতায় যুব-নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন উদ্যোগের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’, ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’, ‘বিকশিত ভারত বাজেট ক্যুইজ’, ‘যুবা কানেক্ট’ এবং অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক শিক্ষামূলক কর্মসূচি। এই উদ্যোগগুলি তরুণদের শাসনব্যবস্থা, সমাজসেবা এবং দেশ গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার মহাসচিব শ্রী উৎপল কুমার সিং এবং যুব বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শ্রী নীতেশ মিশ্র; এছাড়াও মন্ত্রকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা এতে অংশ নেন।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের উদ্যোগে ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৭ জুন নয়াদিল্লিতে ‘বিকশিত ভারত যুব সংসদ ২০২৬’-এর আয়োজিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা এবং শাসনকার্য পরিচালনা, নীতি-নির্ধারণী আলোচনা ও সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ।
– পিআইবি








