পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার-কাম-সচেতনতা অভিযান

প্রগতি ত্রিপুরা, ১০ জুন, ২০২৬: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গোমতী জেলার কিল্লায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে NOKHAYUNG & GROUP সামাজিক সংস্থা। সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হয় পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার-কাম-সচেতনতা অভিযান এবং টি. অলিভেরি (কানকাই ওয়া) বাঁশ রোপণ কর্মসূচি।

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future”-কে সামনে রেখেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গ্রামবাসী, মহিলা, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরিবেশ রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।আলোচনায় উঠে আসে টি. অলিভেরি (কানকাই ওয়া) বাঁশের বহুমুখী সম্ভাবনার বিষয়টি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুত বর্ধনশীল এই প্রজাতির বাঁশ বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি এটি মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই বাঁশ চাষ আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।

সেমিনারে আরও আলোচিত হয় বাঁশভিত্তিক বনায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনা। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়ক হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

সচেতনতামূলক আলোচনা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় গণবাঁশ রোপণ কর্মসূচি। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সহযোগিতায় বহু টি. অলিভেরি বাঁশের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন NOKHAYUNG & GROUP-এর সম্পাদক বিল্লু জমাতিয়া। তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়; সমাজের প্রতিটি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

আজকের এই উদ্যোগ সেই সম্মিলিত দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।”তিনি আরও জানান, ত্রিপুরায় বনায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসম্পৃক্ত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।‘বাঁশ লাগান, কার্বন ক্রেডিট অর্জন করুন, সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করুন এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখুন’— এই বার্তাই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

Leave a Comment