অনলাইন ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬: যথাযোগ্য মর্যাদায় উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে আজ দেশের সংবিধান প্রণেতা ভারতরত্ন বাবাসাহেব ড. বি আর আম্বেদকরের ১৩৬তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ, বিধায়ক মিনারাণী সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুর নিগমের কর্পোরেটরগণ, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে সহ শিল্পী, সাহিত্যিক, ছাত্রছাত্রী ও গুণীজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, বাবাসাহেব ড. বি আর আম্বেদকর ছিলেন একজন দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম আইন মন্ত্রী। তিনি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংবিধান আমাদের উপহার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ড. আম্বেদকর এক নতুন ভারত গড়তে চেয়েছিলেন। যেখানে থাকবে না দারিদ্র, অস্পৃশ্যতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার ও নিপীড়ন। সকলের সমান অধিকার থাকবে। তিনি ড. আম্বেদকরের ছাত্র জীবন, উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবন তুলে ধরে বলেন, তাঁর সারা জীবনের যে নিরলস সংগ্রাম তা আমাদের নতুন শিক্ষা দেয়।
তিনি সারা জীবন দেশের অস্পৃশ্য, অসহায় ও পিছিয়ে পড়াদের জন্য কাজ করে গেছেন। তাই বর্তমান প্রজন্মকে ড. আম্বেদকরের চিন্তাধারা, মত, পথ ও আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। রাজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শিক্ষার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কেননা, শিক্ষা ছাড়া একটি সমাজ, রাজ্য ও দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি বলেন, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর তপশিলি জাতি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিতে বহু মেধা পরস্কার চাল করেছে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, ড. আম্বেদকর সংবিধানের শুধু স্থপতি নন। তিনি ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় সংবিধানে জনসাধারণের মৌলিক অধিকার, কর্তব্য ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংস্থান রেখে গেছেন।
তিনি নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র ছিল শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও এবং সংঘর্ষ করো। তিনি শিক্ষাকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে গণ্য করতেন। ড. আম্বেদকর বলতেন, বিভাজন নয়, আমাদের সকলকে ঐক্যের পথে চলতে হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস ও সবকা বিশ্বাস এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ড. আম্বেদকরের চিন্তাধারার ফসল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা ড. আম্বেদকরের দেখানো পথ ও আদর্শকে অনুসরণ করেই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন।
ড. আম্বেদকরের দর্শনীয় স্থানগুলোকে পঞ্চতীর্থ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ড. আম্বেদকর কর্মের মাধ্যমে ভারত তথা বিশ্বকে নতুন পথ দেখিয়েছেন। তাই পরিস্থিতি নয়, সংকল্পই মানুষকে লক্ষ্যে পৌছে দেয়। সভাপতির ভাষণে পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বর্তমান প্রজন্মকে বাবাসাহেব ড. আম্বেদকরের জীবনী, আদর্শ ও চিন্তাধারা অধ্যয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠান শুরু আগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে এক শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক পরিক্রমা শেষে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে শচীন দেববর্মণ স্মৃতি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের শিল্পীগণ দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন।








