বিগত সরকারগুলি প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটের বৈতরণী পার করেছে : বিজেপি মনোনীত প্রার্থী
প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ মার্চ, ২০২৬: আসন্ন ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে পাহাড়ি জনপদে। এরই মধ্যে ১১ মহারানী–তেলিয়ামুড়া কেন্দ্রের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী বিল্লু জমাতিয়া প্রচারে গিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করলেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৫ বছর সিপিএম এবং পরবর্তী ৫ বছরে তিপ্রা মথার শাসনকালে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার মানুষদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত রেখে শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি করা হয়েছে।

২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আঠারমুড়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ৩৬ মাইল ভাস্কর ছড়া এলাকায় বিল্লু জমাতিয়ার সমর্থনে একটি নির্বাচনী প্রচার সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস, সাধারণ সম্পাদক ওয়াথারাই মলসুম সহ স্থানীয় নেতৃত্বরা। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিল্লু জমাতিয়া বলেন, “বিগত সরকারগুলি প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটের বৈতরণী পার করেছে, কিন্তু জনজাতি মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনজাতি সমাজের একটি বড় অংশ আজও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।প্রচার সভার পাশাপাশি এদিন তিনি এলাকার যুবক-যুবতী ও মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। আলোচনায় উঠে আসে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব সহ একাধিক মৌলিক সমস্যা। বিজেপি প্রার্থী দাবি করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার জনজাতি উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার নেতৃত্বে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়নের কাজ এগোচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সভা থেকে বিল্লু জমাতিয়া প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পানীয় জল, রাস্তা ও অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে তিনি উদ্যোগী হবেন। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই পাহাড়ি জনপদে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হবে, এদিনের সভা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী