প্রতারণা ও জালিয়াতি পূর্ণই বাজেট বলে দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৭ মার্চ, ২০২৬: রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট এই সরকারের সময়কালের মধ্যে আরও অধিক প্রতারণা ও জালিয়াতি পূর্ণই এই বাজেট। এতে সংখ্যার কারসাজি করে যেমন নিজেদের অপদার্থতা, ব্যর্থতা, সাথে কেন্দ্রীয় সরকার ও ষোড়শ অর্থ কমিশনের রাজ্যের স্বার্থ বিরোধী মুখ আড়ালের নগ্ন চেষ্টা আর কিছু কাগজের হিসাব ছাড়া আর কিছুই নয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রাজ্যের বাজেট বরাদ্দ ছিলো ৩২,৪২৩ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিলো ৪২৯ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। ঐ বাজেটে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক সুরক্ষা সহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা ছিলো, বাস্তবে তার কিছুই দেখা যায়নি।

বর্তমান বাজেট পরিকল্পনার পূর্বে রাজ্য সরকার ষোড়শ অর্থ কমিশনের কাছে আগের ৫ বছরের জন্য রাজ্যের বরাদ্দ দাবি করেছিলো ১৭৮ লক্ষ কোটি টাকা। এতে রাজ্যের আর্থিক চাহিদা, অবকাঠামোগত, পাহাড়ি এলাকার সমস্যাগুলি নিরসন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সাথে ছিলো সীমান্তবর্তী রাজ্যের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয়। কিন্তু অর্থ কমিশন যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাতে দাবি ও প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির বিশাল ফারাকই পরিলক্ষিত হয়। বর্তমান বাজেট পেশের পূর্বে এই অর্থবর্ষের যোড়শ অর্থ কমিশনের অনুদান ৩১ কোটি টাকা কম পেয়েছে রাজ্য সরকার।

আমাদের রাজ্য সহ দেশের ছোট ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল রাজ্যগুলি বরাবরই কেন্দ্রীয় করের অংশ ও উন্নয়ন প্রকল্প সহ নানা খাতে কেন্দ্রীয় ব্যয়ে বরাদ্দের উপর নির্ভর। আর তাই তো বিগত সরকার বরাবরই যা বেশি বেশি করে প্রচারে নিয়ে আসছিলো এই কর্মসংস্থান, শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কারণেই রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। সেই ক্ষেত্রে সংকটাপন্ন সকল মানুষই বিশ্বাস করেছিলো মোদি-শাহ সহ সকলের প্রতিশ্রুতি যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার হলে রাজ্যে টাকার কোনও অভাব হবে না। আট বছরে প্রমাণিত অন্য সব প্রতিশ্রুতির ন্যায় এটাও সম্পূর্ণ অসত্য, প্রতারণাপূর্ণ প্রতিশ্রুতি যা এই বাজেটেও প্রতিফলিত।

Leave a Comment