অনলাইন ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬: সমাজে যুবকদের যত বেশি স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় চালিত করা যাবে সমাজ তত শক্তিশালী হবে। স্বামীজী বিভেদহীন বলিষ্ঠ ভারত গঠনের স্বপ্ন নিয়ে দেশের যুব সমাজকে জাতীয়তাবোধ ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করে বিশ্বের মাঝে ভারতের ভাবমূর্তিকে উচ্চে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছিলেন। স্বামিজী হলেন ভারতের গর্ব ও বিস্ময়।
স্বামিজী বলেছেন, কাজের বিকল্প নেই। যত বেশি মানুষের সেবায় কাজ করা যাবে ততই মনে আত্মত্মতৃপ্তি আসবে। আজ গাঙ্গাইল রোডস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের সিটি সেন্টারে স্বামী বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তি স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮ থেকে ৩৫ বয়স বয়সী যুবকযুবতীদের মানসিক মেধা, শিক্ষা, শ্রমশক্তির সংমিশ্রনে শক্তিশালী মানব সম্পদ গড়ার মধ্য দিয়ে ভারতকে শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিবেকানন্দকে জানলে ভারতকেও জানা যায়। ভারতীয় সংস্কৃতির মূল মন্ত্রই হচ্ছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কিছু বিষয় আমাদের যুব সমাজকে গ্রাস করছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য ও পরম্পরা।
নিজেদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে রক্ষা করে পাশ্চাত্য থেকে আমাদের ভাল জিনিসটা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ছাত্র যুবাদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি, দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাই ভারত সরকার বর্তমানে ভারতীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পুনরুদ্ধার করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশন অন্যতম আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রামকৃষ্ণ মিশন উৎকৃষ্ট মানের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। ছাত্রছাত্রীদের শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পড়াশোনা করলে চলবে না। শিক্ষিত হয়ে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। রাজ্যে জনজাতিদের মধ্যে শিক্ষা প্রসারেও রামকৃষ্ণ মিশনের বিশেষ অবদান রয়েছে।
অন্যান্যদের মধ্যে বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুভিরানন্দজী মহারাজ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান গাঙ্গাইল রোডে রামকৃষ্ণ মিশনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ একজন বিশ্বগুরু। রামকৃষ্ণ মিশনের ১২৫তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীও বিশেষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
সমাজকে স্বচ্ছ ও সুন্দর রাখতে ছাত্র যুবাদের স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে আরও বেশি চর্চা করা দরকার। এই মূর্তি স্থাপনের ফলে ছাত্রছাত্রী ও যুব সমাজ আরও বেশি করে স্বামীজির প্রতি অনুপ্রাণিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক শুভকারানন্দজী মহারাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার প্রমুখ।







