প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একমাত্র সংকল্প ও স্বপ্ন এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এক নতুন ভারত গঠন। একমাত্র ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতীরাজ ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়ণের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এই সংকল্প ও স্বপ্নকে সফল রূপ দিতে পারবো।
আজ শিপার্ডের এসপিআরসি (ত্রিপুরা) গ্রাম স্বরাজ ভবনে অনুষ্ঠিত রাজ্যভিত্তিক রোল আউট প্রোগ্রাম অব পিপলস প্ল্যান ক্যাম্পেইন ২০২৫-২৬ এন্ড প্রিপারেশন অব পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০২৬-২৭ এর কর্মশালার উদ্বোধন করে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন একথা বলেন। পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, পঞ্চায়েত মানে শুধু একটি অফিস বা কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নয়, পঞ্চায়েত মানে আমরা সবাই।
পঞ্চায়েত মানে আমাদের জনগণ এবং তাদের জন্য দেওয়া পরিষেবা, যেমন রাস্তা, পানীয় জল, আলো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, নারী ও শিশুর সঠিক সুরক্ষা প্রদান। এই সব কিছুর সাথে সরাসরি জড়িয়ে আছে পঞ্চায়েতের সমস্ত পরিকল্পনা ও এর কর্মসূচির বাস্তবায়ণ। তিনি বলেন, সময়মত ১টি পঞ্চায়েতের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে তার মধ্য দিয়ে একটি বাজেট তৈরী করতে হবে।
এই প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরীর সময় জন কল্যাণের প্রত্যেকটি চাহিদার দিকে নজর রাখতে হবে। প্রত্যেকটা কাজের পরিকল্পনা ও বাজেটের হিসাব জনগণের কাছ দিতে দায়বদ্ধ। একজন সাধারণ মানুষও পরিকল্পনা ও বাজেট থেকে বঞ্চিত না হয় তা দেখতে হবে। পঞ্চায়েতের উপর মানুষের ভরসা যাতে বৃদ্ধি পায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সময় মতো প্রতিটি দপ্তরের সাথে আলোচনা করে স্বস্ব এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে বাজেট তৈরী করতে হবে। বাজেটের মধ্যে জনগণের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত ভাবে গড়ে তোলার একটি সুদৃঢ় উদ্যোগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি সময়োপযোগী বাজেটই পারে একটি শক্তিশালী গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন করতে। তিনি রাজ্যের সমস্ত অংশের জনপ্রতিনিধিদের আগামী দিনে একটি সুন্দর গ্রাম পঞ্চায়েত রাজাকে উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে বলেন।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে তিনি গ্রাম স্বরাজ ভবন প্রাঙ্গণে পশ্চিম জেলা পঞ্চায়েত রিসোর্স সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহরায় এবং ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস তাদের নিজ নিজ জিলা পরিষদ এলাকার বিগত দিনের বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিধায়ক তথা বকাফা বিএসি’র চেয়ারম্যান প্রমোদ রিয়াং। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পঞ্চায়েত দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা অনুরাগ সেন এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন রাজ্য পঞ্চায়েত রিসোর্স সেন্টারের ফ্যাকাল্টি ড. শুভায়ন চক্রবর্তী। কর্মশালায় রাজ্যের ৮টি জেলার সভাধিপতিগণ, সহ সভাধিপতিগণ, বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।








