প্রগতি ত্রিপুর, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং মেরিট লিস্ট প্রকাশের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামলেন টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবনের সামনে জমায়েত হয়ে গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন টেট-১ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘চাকরি দাও, নয়তো বিষ দাও’। আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে মেরিট লিস্ট প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর এবং টিআরবিটির কাছে মানবিক আবেদন জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মেরিট লিস্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, আদালতের তরফে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ না থাকলে সরকার কেন নিয়োগের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করছে না? তাঁদের আরও দাবি, মামলাকারী নয়জন পরীক্ষার্থীকে এক নম্বর করে দেওয়ার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ রয়েছে। তবে ওই নয়জনের সঙ্গে অন্যান্য উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের একইভাবে বিবেচনা না করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা। যদিও আদালতের নির্দেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, টেট-২ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, ২০২৪ সালের টেট পরীক্ষায় মোট ১,৫০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৬৬ জনকে অফার লেটার দেওয়া হলেও বাকি ৭৩৬ জন এখনও নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে তাঁদের বক্তব্য। অতীতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একসঙ্গে নিয়োগের নজির তুলে ধরে তাঁদের প্রশ্ন, এবার কেন সমস্ত যোগ্য প্রার্থীকে একসঙ্গে নিয়োগ করা হচ্ছে না?
এরই মধ্যে বুধবার নতুন টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ায় নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা পুরনো উত্তীর্ণদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাঁদের বক্তব্য, নতুন পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগের বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত।
এদিকে, আন্দোলনের জেরে শিক্ষা ভবন সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকায় একাধিক সরকারি দপ্তর ও আদালত থাকায় প্রতিদিন বহু মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি, আইজিএম হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
একদিকে দীর্ঘদিনের নিয়োগের অপেক্ষা, অন্যদিকে আইনি জটিলতা—এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আদালতের নির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।








