প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: ত্রিপুরা গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিষেবা প্রদান প্রকল্প (TRESP)-এর আওতায় গোমতী জেলার ওম্পি আর.ডি. ব্লকের আমপিনগরে অবস্থিত গঙ্গা ফিশারি প্রডিউসার গ্রুপ (PG) গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন ও আর্থিক স্বনির্ভরতার এক আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে। বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থায়নে এবং ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গঠিত ২৪ সদস্যের গঙ্গা ফিশারি পিজি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে যাত্রা শুরু করে। গোষ্ঠীটির কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে TRESP-এর অধীনে ₹৫০,০০০ প্রতিষ্ঠাকালীন অনুদান এবং ₹৬ লক্ষ কার্যকরী মূলধন প্রদান করা হয়।

গোষ্ঠীর সদস্যদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য ২০২৬ সালের ১০ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী মাছ চাষবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, মাছ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য খামার পরিদর্শন ও হাতে-কলমে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। মাছ চাষের কাজে সহায়তার জন্য গোষ্ঠীটিকে প্ল্যাঙ্কটন নেট এবং পিএইচ (pH) সূচক যন্ত্রও প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে সদস্যদের মাছ চাষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
গঙ্গা ফিশারি পিজির উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দিক হলো, গোষ্ঠীর তিনজন নার্সারি সদস্য মিঠু রানি দাস, শঙ্করী দাস এবং কনক দেবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়বর্ধক কার্যক্রম শুরু করা। প্রত্যেক সদস্য ₹২০,০০০ করে ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব ₹১৫,০০০ বিনিয়োগ করে তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিঠু রানি দাস ₹১,৫০,০০০ আয় করে ₹১,১৫,০০০ লাভ করেছেন। শঙ্করী দাসের আয় ₹১,০০,০০০ এবং লাভ ₹৬৫,০০০। অন্যদিকে, কনক দেব ₹১,০২,০০০ আয় করে ₹৮২,০০০ লাভ করেছেন। তিনজনের সম্মিলিত আয়ের পরিমাণ ₹৩,৫২,০০০ এবং রিপোর্ট অনুযায়ী মোট লাভ ₹২,৬২,০০০। তাঁদের এই সাফল্য আর্থিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় আয়বর্ধক কার্যক্রম গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
এদিকে, গঙ্গা ফিশারি পিজির ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে এবং একটি ইএমআই (EMI) পরিশোধের তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে TRESP কীভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নে সহায়তা করছে, গঙ্গা ফিশারি পিজির অগ্রগতি তারই একটি ইতিবাচক উদাহরণ। ভবিষ্যতে ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে গোষ্ঠীটি তাদের কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত করতে পারবে বলে আশা করা যায়। এর ফলে ওম্পি আর.ডি. ব্লকের গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।








