রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত ও আধুনিক করে তুলতে জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিকাঠামো সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত ও আধুনিক করে তুলতে জিবিপি হাসপাতালে একাধিক নতুন পরিষেবার সূচনা এবং চিকিৎসা পরিকাঠামো সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন ক্যাথল্যাব, ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিস ল্যাবরেটরি, সার্জিক্যাল আইসিইউ ও মেডিসিন আইসিইউ-সহ বিভিন্ন পরিষেবা রাজ্যের মানুষের জন্য চালু করা হচ্ছে। জিবিপি হাসপাতালের ৬৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আজ নতুন ক্যাথল্যাব, ১২ শয্যার পোস্ট-অপারেটিভ সার্জিক্যাল আইসিইউ, ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিস ল্যাবরেটরি, ১৪ শয্যার মেডিসিন আইসিইউ এবং সেন্ট্রাল স্টেরাইল সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

এই অনুষ্ঠানেই আজ মুখ্যমন্ত্রী জিবিপি হাসপাতালের মেডিসিন ব্লকে সম্প্রসারিত আরও ১৪টি আইসিইউ শয্যার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিস ল্যাবরেটরি তৈরি হয়েছে। নিউ টিচিং হাসপাতাল-১-এ ১২ শয্যার সার্জিক্যাল আইসিইউ এবং এইচডিএফসি-র সহায়তায় ৩ কোটি ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৪ শয্যার মেডিসিন আইসিইউ চালু করা হয়েছে।

পাশাপাশি জিবিপি হাসপাতালের মেডিসিন ব্লকে সম্প্রসারিত আরও ১৪টি আইসিইউ শয্যার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়েছে। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৭২৭টি থেকে বেড়ে ১,৪১৩টি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়নে এইচডিএফসি আরও ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা সহায়তা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে চিকিৎসা শিক্ষার পরিসরও বাড়ছে। আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস-এর আসন বেড়ে ২৫০ হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যে এমবিবিএস পড়ার আসন সংখ্যা বেড়ে ৫৫০টি হয়েছে।

পাশাপাশি ডেন্টাল, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। রাজ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়নে ত্রিপুরা স্টেট হেলথ ইউনিভার্সিটি বিলও বিধানসভায় পাস হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের উপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, সঠিক রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসা এবং আন্তরিক পরিষেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে জানান, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য গত দুই বছরে ন্যাশনাল হেলথ মিশন এবং এসএএসসিআই-এর মাধ্যমে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছর পর্যালোচনার পর চিকিৎসক-শিক্ষকের সংখ্যা ৩৩০ থেকে বেড়ে ৬৩০ করা হয়েছে। রাজ্যের ৯৪ শতাংশ স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথি আধার-সংযুক্ত করার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. বিধান গোস্বামী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মিনা রাণী সরকার, স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সাজু বাহিদ এ, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তপন মজুমদার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসক ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী ও নার্স কৃষ্ণা মজুমদারকে তাঁদের কর্মজীবনের অবদানের জন্য সংবর্ধনা জানান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডা. কনক চৌধুরী।

Leave a Comment