নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যুব বিক্ষোভ, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যুব আন্দোলনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। বন্ধ রাখা হয়েছে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন ও একাধিক বাজার। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে স্থগিত করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি যুব সংগঠনের ডাকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে বলে দাবি তাঁদের। এই ঘটনার দায় নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

সম্প্রতি একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কথা উঠে আসার পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শনিবার সকাল ১০টায় যন্তর মন্তরে জমায়েতের পরিকল্পনা থাকলেও কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পুলিশের দাবি, নির্ধারিত সময়ে আবেদন জমা পড়েনি এবং আগের বিক্ষোভের শর্তও লঙ্ঘিত হয়েছিল। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে যোগদান ঠেকাতে শুক্রবার একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। পাশাপাশি বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment