দশ বছর ধরে বেহাল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগে শিশু ও মায়েরা

প্রগতি ত্রিপুরা, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬: লালজুড়ি ব্লকের রবি রায়পাড়ায় জরাজীর্ণ ভবনে চলছে কেন্দ্র, দ্রুত সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার লালজুড়ি ব্লকের অন্তর্গত জয়মনিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রবি রায়পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র।

জরাজীর্ণ ভবনে ছাদ দিয়ে জল পড়া, দেওয়ালে ফাটল এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শিশু, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও এলাকার বাসিন্দারা। কেন্দ্রটির দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটির অবস্থা শোচনীয় হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়নি। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে জল পড়ায় শিশুদের নিয়ে পঠনপাঠন ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় ছোট ছোট শিশুদের পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে শৌচালয় ও পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। ছাদ দিয়ে জল পড়ার কারণে শিশুদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসা এবং খাবার বিতরণ করাও সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় অনেক শিশু কেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মীর বক্তব্য, “বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে জল পড়ে। এই অবস্থায় শিশুদের সামলানো এবং কেন্দ্রের কাজকর্ম চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।” অন্য এক স্থানীয়ের অভিযোগ, “বিষয়টি নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।”

সরকারের তরফে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলেও রবি রায়পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামোগত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসন পর্যন্ত একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার স্বার্থে অবিলম্বে কেন্দ্রটির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি, জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে একটি নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, শৌচালয় ও পানীয় জলের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে শিশুদের নিরাপত্তা ও পুষ্টির স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment