প্রগতি ত্রিপুরা, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬: দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে ফের অভিযোগ উঠল। এবার এক রোগীর মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তে দীর্ঘ বিলম্ব, সময়মতো অক্সিজেন না দেওয়া এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শান্তিরবাজার মহকুমার বগাফা এলাকার লংকাজয় পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আলী (৩৭) অসুস্থ অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরদিন সকাল ১০টায় তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছন। কিন্তু বিকেল ৩টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় শান্তিরবাজার থানার পুলিশকেও হাসপাতালে অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
মৃতের ভাই মস্তান আলীর অভিযোগ, আব্দুল আলীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত এক চিকিৎসক তাঁকে আগরতলায় রেফার করার পরামর্শ দেন। পরে চিকিৎসকের শিফট পরিবর্তন হলে অন্য এক চিকিৎসক রোগীকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালেই রেখে চিকিৎসা চালানোর কথা বলেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা করাতে নির্দেশ দেন। পরিবারের অভিযোগ, রাতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা হাসপাতালের সামনের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে রোগীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
পরিবারের আরও অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাঁদের। পাশাপাশি হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফ্রিজিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। মৃতদেহ সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন বলে মত পরিবারের সদস্যদের।
মৃতের আরেক আত্মীয়া সেলিনা খাতুনও হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিবারের অভিযোগ, রোগীদের সঙ্গে যথাযথ মানবিক আচরণ করা হয় না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত পরিষেবা মেলে না।
উল্লেখ্য, শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় মহলে দাবি। আব্দুল আলীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের তরফে ওঠা এই অভিযোগের পর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, মর্গের পরিকাঠামো এবং রোগীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে পরিবারের তরফে তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।








