প্রগতি ত্রিপুরা, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬: পর্যটকদের কাছে নীরমহলকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়ে রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মেলাঘরের রাজঘাটে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নীরমহল জল উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। গত ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই উৎসবের শেষ দিনে রুদ্রসাগরে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নীরমহল শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি ত্রিপুরার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। নীরমহলের অনন্য স্থাপত্য রাজন্য সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। এর সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ত্রিপুরা কিংবা উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সারা দেশসহ বিদেশেও নীরমহল পরিচিতি লাভ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নীরমহল। এই পর্যটনকেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। নীরমহল জল উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করাও এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য।
নীরমহল জল উৎসব বছরে একবারের পরিবর্তে একাধিকবার আয়োজন করার জন্যও পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বছরে কয়েকবার এই উৎসবের আয়োজন করা হলে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে এবং নীরমহল আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারবে। বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উৎসবের সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা, মোহনভোগ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শ্রীবাস ভৌমিক, মেলাঘর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনামিকা ঘোষ পাল রায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উৎসবের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত মনসামঙ্গল প্রতিযোগিতা, দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতা এবং নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এবং অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের মেলবন্ধনে নীরমহল জল উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও বিশেষ গুরুত্ব পায়।








