প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ক্যাজুয়ালদের পূজা অগ্রিম থেকে এইবারও বঞ্চিত করা হল ।সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখ অর্থ সচিবের নিকট চিঠি দিয়ে ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চে থেকে দাবি রাখা হয়েছিল রাজ্যের ক্যাজুয়াল কর্মীদের পূজা অগ্রিম বা এডভান্স দেওয়ার জন্য এবং অনুদান বৃদ্ধি করে ৭ হাজার টাকা করার জন্য। কিন্তু, আজ অর্থ দপ্তর থেকে এডভান্স ও অনুদান প্রদানের নির্দেশ জারি হওয়ার পর দেখা গেল সেই দাবি মঞ্জুর করা হয়নি। ২০২১ সন অব্দি ক্যাজুয়াল কর্মীরা পূজা অগ্রিম শেষ পেয়েছিল। এর পর থেকে প্রতি বছরই সরকারের নিকট দাবি করা হয়েছিল ক্যাজুয়ালদের যেন পূজা অগ্রিম দেওয়া হয়, এইবারও সেই দাবি রাখা হয়েছিল। কিন্তু, কোনো কাজ হল না।
২০২১ সন অব্দি ক্যাজুয়ালদের যে এডভান্স দেওয়া হতো তা ডিআরডব্লিওদের দেওয়ার নির্দেশিকা ফলো করে দেওয়া হতো । যা ডি.এ. বৃদ্ধি হওয়ার পর অর্থ দপ্তরের মেমোতে যেভাবে বর্ণনা থাকে। ডিআরডব্লিও আর ক্যাজুয়াল কর্মীরা উভয় অর্থ দপ্তরের অনুমোদন প্রাপ্ত কর্মচারী। অথচ, পূজা অগ্রিমের ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ডিআরডব্লিওদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই বঞ্চনার জন্য ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চ তিব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে। গত ২১শে সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত এবং প্রানী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তার নিকট যে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছিল সেই ডেপুটেশনে অন্যান্য দাবির সঙ্গে সকল স্তরের অনিয়মিত কর্মচারীদের পূজা অগ্রিম দেওয়া ও অনুদান বৃদ্ধি করার অনুরোধও রাখা হয়েছিল।
নতুন নির্দেশিকায় মাত্র ৩০০ টাকা অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারা বৎসর সামান্য বেতনে অনিয়মিত কর্মচারীরা দশকের পর দশক কাজ করে আসছে, তাদের নিয়মিত করা হচ্ছে না। ২০১৮-র পূর্বে অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করার স্কিম চালু ছিল রাজ্যে, কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে ৩১শে জুলাই ২০১৮ সনে সেই নিয়মটি বন্ধ করে দেয়। যদিও বলেছিল আরো স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করবে, আট বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো স্কিম তৈরি করতে পারেনি বর্তমান সরকার। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টও রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের ৮ জন ডিআরডব্লিও কর্মীর করা মামলায় রায় দিয়েছে তাদের দ্রুত নিয়মিত করার জন্য, সেই মতো তাদের কে রেগুলার করেছে শিক্ষা দপ্তর ।
কিন্তু, রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে যে হাজার, হাজার অনিয়মিত ডিআরডব্লিও, ক্যাজুয়াল এবং পিএল কর্মীরা রয়েছে তাদের বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই । যা অসাংবিধানিক এবং অ-গণতান্ত্রিক । সুপ্রিম কোর্ট বহু মামলায় রায় দিয়েছে বছরের পর বছর অনিয়মিত অবস্থায় কাজ করানো যাবে না, নতুন পদ তৈরি করে তাদের নিয়মিত করতে হবে। কিন্তু, কে শোনে কার কথা। দীর্ঘ বৎসর এই শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে যে অনিয়মিতরা আরো আন্দোলন তীব্র করতে হবে তাহাই একমাত্র পথ বলে মত প্রকাশ করেছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী রতন দেবনাথ।








