প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: গণেশ পূজার গানের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে এক যুবককে প্রকাশ্যে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আহত যুবকের মা। তাঁর দাবি, ছেলেকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাঁর ছেলের খোঁজ নেয়নি।
জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে গণেশ পূজা উপলক্ষে কৈলাসহর শহরের প্রধান সড়কের নেতাজি কর্নারে গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান দেখতে সেখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। ওই অনুষ্ঠানে গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা অমিত সরকারও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েকজন যুবক হঠাৎ অমিতকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অমিতকে কৈলাসহর আর.জি.এম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অমিতের মা বিল্ব রানী সরকার।
বিল্ব রানী সরকারের অভিযোগ, হামলায় অমিতের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং বুকে প্রচণ্ড চোট পেয়েছেন তিনি। ঘটনার পর তিনি কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের তিন দিন পরও মামলা নথিভুক্ত হয়নি বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা বা তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। উল্টো মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
আহত যুবকের মা আরও জানান, ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর আশ্বাস পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। তবে এ বিষয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।








