তীব্র রোদে প্রার্থনা সভার নির্দেশ! প্রধান শিক্ষিকার ‘অমানবিক’ আচরণে সরব শিক্ষার্থীরা, সড়ক অবরুদ্ধ

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬: প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে দীর্ঘসময় ধরে বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সভা। তাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সহপাঠী। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো ও করিডোরে প্রার্থনা সভার অনুরোধ জানাতে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার ‘অমানবিক’ আচরণের শিকার হতে হলো শিক্ষার্থীদের। ক্ষোভে-প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হলো দক্ষিণ চড়িলাম ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তীব্র গরমে নাভিশ্বাস উঠছে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের। খোলা মাঠে প্রখর রোদের নিচে দাঁড়িয়ে দীর্ঘসময় প্রার্থনা সভা করতে গিয়ে মারাত্মক শারীরিক অস্বস্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার রোদের তাপে প্রার্থনা চলাকালীন এক ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

সহপাঠীর অসুস্থতার পর রবিবার শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষিকার কাছে অনুরোধ জানায়, তীব্র রোদের তীব্রতা না কমা পর্যন্ত তাদের যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরের করিডোরে প্রার্থনা সভা করতে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীপিকা দেববর্মা শিক্ষার্থীদের সেই মানবিক আবেদনে কান তো দেনইনি, বরং করিডোরে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের চড়াও হয়ে ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক মাঠের প্রখর রোদের মধ্যে বের করে দেন।

প্রধান শিক্ষিকার এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ের সামনের জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। এর ফলে সড়কটিতে সাময়িকভাবে যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষোভ কেবল রোদে প্রার্থনা সভাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী আয়া না থাকায় পানীয় জলের ট্যাংক ভরানো ও পরিচ্ছন্নতার কোনো ব্যবস্থা নেই। শৌচালয়গুলি অত্যন্ত নোংরা এবং চরম অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একাধিকবার এসব সমস্যার কথা জানিয়ে প্রধান শিক্ষিকার দ্বারস্থ হলেও তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এসেছেন।

শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি— মাঠের প্রখর রোদে প্রার্থনা সভা করানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন শৌচালয়সহ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করতে হবে। দাবিপূরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

Leave a Comment