প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬: রাজ্যের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র আইজিএম (IGM) হাসপাতালে চরম রূপ নিয়েছে পরিকাঠামোগত বিপর্যয়। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে হাসপাতালের লিফট পরিষেবা। শুধু তা-ই নয়, তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগী, তাঁদের পরিজন এবং হাসপাতালে কর্মরত কর্মীদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কোনো র্যাম্প (Ramp) ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ছয় তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের তিনটি লিফটের মধ্যে মাত্র একটি লিফট চালু ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটিও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে সম্পূর্ণ থমকে যায় লিফট পরিষেবা। অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কর্তব্যরত কর্মীদের।
অভিযোগ উঠেছে, বহুতল এই ভবনটিতে রোগীদের ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলক বিকল্প র্যাম্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ৬ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি দিয়েই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রোগী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোপন ক্যামেরায় এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছেন হাসপাতালে নিয়োজিত এক বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী।
এর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এই তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের সাথে আসা স্বজনদের। ক্ষুব্ধ এক রোগীর পরিজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, লিফট বন্ধ এবং লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ নরকতুল্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বহুতল হাসপাতাল ভবনে লিফটের পাশাপাশি র্যাম্প ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজ্যের অন্যতম প্রধান এই সরকারি হাসপাতালে তার কোনোটিই সঠিকভাবে কার্যকর না থাকায় পরিকাঠামো ও নির্মাণ শৈলী নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ও তাঁদের স্বজনদের এমন নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।








