প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬: এমনই এক ঘটনা ঘটলো সাব্রুম মহকুমা, সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। কলাছড়া বাজার সংলগ্ন মনসিং পাড়ার বাসীন্ধার সুতরাং ত্রিপুরা একমাত্র ছেলে বিকাশ ত্রিপুরা (১৩) সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পাঠারত। গত ১১-ই আগস্ট ২০২৬ রোজ মঙ্গলবারদিন দ্বিতীয় ক্লাসে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করানোর জন্য স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী প্রবেশ করেন। ক্লাস চলাকালীন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হ্যান্ড-রাইটিং চেক করার সময় বিকাশ ত্রিপুরার টেবিলে খাতার নিচে খাওয়ার মিমি দেখতে পায়।
সাথে সাথে বিকাশ ত্রিপুরা ক্লাস রুমের জানালা দিয়ে ফেলেদিতে গেলে শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী বিকাশ ত্রিপুরাকে ডাকদেন। এরপর শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী মেজাজ হারিয়ে প্রচন্ডভাবে বেধড়ক বেশকিছু বেত একসাথে হাতে নিয়ে স্কুলছাত্র বিকাশ ত্রিপুরাকে মারতে থাকেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা বিকাশ ত্রিপুরা বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের বলেন। পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ ঐদিন প্রচন্ড ব্যথা বেদনার জন্য ঘুমাতে পারেনি সারারাত্র।
এর পরেরদিন তথা ১২-ই আগস্ট ২০২৬ রোজ বুধবারদিন দুপুরবেলা আহত বিকাশ ত্রিপুরাকে সঙ্গে নিয়ে অভিভাবকরা স্কুলে আসেন। স্কুলে এসে পুরো ঘটনাটি স্কুলের প্রিন্সিপাল চন্দন কুমার দেবনাথকে জানান। সাথে সাথে স্কুলের প্রিন্সিপাল নিজের অফিস কক্ষে স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক প্রতীক চক্রবর্তী, স্কুলের আরো অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা সহ আহত বিকাশ ত্রিপুরার অভিভাবকরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দীর্ঘ সময় ধরে।
ঐদিন সকলের মতামতের আলোচনার ক্রমে সূত্রে বের হয়ে আসে সপ্তম শ্রেণীর আহত বিকাশ ত্রিপুরা পরিবারের সাথে সুবিধা-অসুবিধা খবরা খবর নেওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিলেন। সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্র আহত বিকাশ ত্রিপুরার শারীরিক অবস্থা খুবই ঘুরতর হয়ে পরতে চলেছে বলে অভিভাবকদের মতামত। পরিবারে পক্ষ থেকে আহত বিকাশ ত্রিপুরার অবস্থা ঘুরতর দেখে বাড়ীর পাশে কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ভর্তি হয়।
পরিবারের অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও বিকাশ ত্রিপুরার শারীরিক অবস্থা কেমন আছে তাও খবরাখবর নিতে নারাজ। সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আহত বিকাশ ত্রিপুরাকে যেভাবে শিক্ষকমশাই প্রতীক চক্রবর্তী মারধর করেছেন এর সুষ্ঠু বিচারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৯-ই আগস্ট ২০২৬ সাব্রুম থানায় মামলা করেন। মামলা করার খবর শুনতে পেয়ে স্কুলের পক্ষ থেকে স্কুলের প্রিন্সিপাল সহ আর তিন শিক্ষক-শিক্ষিকা আহত বিকাশ ত্রিপুরার কলাছড়া বাড়িতে ছুটে যায়। স্কুলের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিকাশ ত্রিপুরার অভিভাবকদের অনুরোধ জানান। আর এতে পরিবারের লোকজনরা নারাজ। তাদের অভিযোগ এতদিন কোথায় ছিলেন ?








