প্রগতি ত্রিপুরা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬: গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্পিন বোলিংয়ের অসাধারণ এক প্রদর্শনী মেলে ধরে ভারতের ১৬৫ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেছেন বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার।
শেষ ইনিংসে তার দুর্দান্ত ৬ উইকেটের সৌজন্যে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে ভারতের ৬০০তম ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটিকে জয়ে স্মরণীয় করে রাখল দল।
জয়ের জন্য ৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের শেষ দিনে মধ্যাহ্নভোজের পরবর্তী সেশনে ২০৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক কে এল রাহুল স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানতাম যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে, তাই খেলা বেশি দূর না টেনে যত দ্রুত সম্ভব উইকেট তোলার চেষ্টা করেছি।”
দিনের খেলা শুরু করার সময় শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৮৪/৪। ম্যাচ বাঁচাতে বা ড্রয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে লঙ্কানদের সামনে বিশাল কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। দলের অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভা (৫৯) এবং সোণাল দিনুশা (৮৪) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৯৫ রানের জুটিতে আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজা ডি সিলভাকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে সেই পার্টনারশিপ ভাঙতেই লঙ্কানদের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়।
নিজের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে স্পিন ভেলকি দেখান ২৪ বছর বয়সী মানব সুথার। এক ওভারেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনে বড় ধস নামান তিনি। যদিও হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হয়, তবুও এই বাঁহাতি স্পিনার একই ওভারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখা দিনুশাকে থামান, প্রবাথ জয়াসুরিয়াকে বোল্ড করেন এবং লাহিরু কুমারাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান।
এরপর কেশরা নুওয়ান্থাকে বিদায় করে ভারতের স্মরণীয় জয় সম্পূর্ণ করেন তিনি। সুথার ম্যাচে মোট ১০টি উইকেট শিকার করেছেন (দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট)।
অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভা পরাজয় মেনে নিয়ে জানান, “দ্বিতীয় দিন থেকেই আমরা ম্যাচে ফেরার লড়াই চালিয়েছি। শেষ ইনিংসে ছেলেরা লড়াই করলেও লক্ষ্যটা খুব কঠিন ছিল।”
যদিও সুথারের বোলিং ম্যাচ নির্ধারণ করে দেয়, তবে ভারতের প্রথম ইনিংসে ৪৬৭ রানের ভিত্তি গড়ে দেওয়া দেবদত্ত পাডিক্কলের ১৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটির জন্য তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
আগামী রবিবার থেকে কলম্বোয় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ।








