১১ দফা দাবিতে রাজ্যে বাম ফ্রন্টের ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি, আগরতলায় ভাঙল পুলিশের ব্যারিকেড

অনলাইন ডেস্ক, ১০ আগস্ট, ২০২৬: বামেদের ‘জেল ভরো’ ঘিরে রণক্ষেত্র রাজধানী: ব্যারিকেড ভেঙে ধৃত ধরনা, সুর চড়ালেন মানিক-জিতেন্দ্র
নিজস্ব প্রতিনিধি: সোমবার সকাল থেকে বামেদের আইন অমান্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজ্য। সরকারের জনবিরোধী নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে এদিন রাস্তায় নামেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘জেল ভরো’।

রাজধানীর মেলার মাঠ এলাকা থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের যৌথ নেতৃত্বে একটি বিশালাকার মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কামান চৌমুহনি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই বিপুল পুলিশ বাহিনী ও ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকানোর চেষ্টা করে। মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত বাম কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ, টিএসআর এবং আধাসামরিক বাহিনী চারদিক থেকে মিছিলটি ঘিরে ফেলে।

বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেই বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন: “গত সাড়ে আট বছরে এই ডাবল ইঞ্জিন সরকার গ্রাম ও পাহাড়ের মেহনতি মানুষের কাজ কেড়ে নিয়েছে, জুমিয়াদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজ গ্রামে-পাহাড়ে চরম হাহাকার, খাদ্যাভাব আর মৃত্যুর মিছিল চলছে—এমনকি সন্তান বিক্রির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে। প্রতিটি সরকারি দপ্তরে আজ লুটের রাজত্ব।”

শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আজকের এই আন্দোলন হয়তো রাতারাতি সরকার পরিবর্তন করবে না, কিন্তু দুর্নীতিবাজ বিজেপি ও তিপ্রামথার জোট সরকারকে তাদের জনবিরোধী নীতি বদলাতে বাধ্য করবে। নীতি না বদলালে আগামী দিনে এই সরকারকে গদিচ্যুত করার জন্য আরও বৃহত্তর সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। আজকের আন্দোলন দেশ, রাজ্য ও মানুষকে বাঁচানোর লড়াই।”

অন্যদিকে, মিছিলে উপস্থিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিজেপির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। কৃষকদের ন্যায্য পাওনা, শ্রমিকবিরোধী শ্রমকোড বাতিল এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের মতো ১১ দফা দাবিতে আজ দেশব্যাপী এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।”

রাজ্যের এই আইন অমান্য আন্দোলন সেই কেন্দ্রীয় কর্মসূচিরই অংশ উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী দিনে দেশের স্বার্থে “জনগণের দুশমন” এই সরকারকে সমূলে উপড়ে ফেলতে আরও বড় মাপের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এদিনের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ ও বাম কর্মী-সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী