অনলাইন ডেস্ক, ০৬ অগাস্ট, ২০২৬: বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে প্রাণ গেল গবাদিপশুর, বাঁচলেন কৃষক। বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজের মাশুল দিতে হলো এক দরিদ্র কৃষক পরিবারকে। কভার্ড বা প্লাস্টিক মোড়ানো তারের মারাত্মক শর্ট সার্কিটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে একটি গবাদিপশুর। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছেন কৃষক নিজেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বননারাম ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। তিনি পেশায় একজন কৃষক। কৃষক হুমায়ুন কবির তাঁর পোষা গরুটি নিয়ে চারণভূমির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি লোহার খুঁটির পাশে পৌঁছাতেই হঠাৎ তারে শর্ট সার্কিট হয়ে পুরো খুঁটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে।
এতে গরুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে করতে মারা যায়। গরুটি কিছুদিন আগে ৯৪,০০০ টাকায় কেনা হয়েছিল এবং তিন মাস ধরে লালন-পালন করার পর সেটির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকারও বেশি। এর আগে অন্য একটি ব্যবসায় প্রায় ২৫,০০০ টাকার ক্ষতি হওয়ায় এই গরুটিই ছিল পরিবারটির শেষ সম্বল। এলাকায় বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন ও জরাজীর্ণ খুঁটি নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চায়েত সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুতের তারগুলো ঝুলন্ত অবস্থায় মানুষের মাথার কাছাকাছি নেমে এসেছে।
এছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি ফেটে ও ভেঙে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। চাষাবাদের জমি এবং কৃষিক্ষেত্রে প্রতিদিন শত শত মানুষ কাজ করেন। ঝুলন্ত হাই ভোল্টেজ লাইনের কারণে স্থানীয় কৃষক, সাধারণ মানুষ এবং গবাদিপশু (গরু-ছাগল) চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেল্লাঘর বিদ্যুৎ বিভাগকে বারবার জানিয়ে এবং নিয়মিত যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। “আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করছি এবং খুঁটি ও তার ঠিক করার আবেদন জানাচ্ছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এভাবে ভাঙা খুঁটি পড়ে গিয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা কারো প্রাণহানি হলে এর দায় কে নেবে?”
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, যেকোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ দপ্তর যেন অবিলম্বে এই জরাজীর্ণ খুঁটি ও বিপজ্জনক তার দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়। ঘটনার পর বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন ও ছবি সংগ্রহ করে নিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব কৃষক হুমায়ুন কবির পরিবারটির সুষ্ঠু জীবনধারণের স্বার্থে বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








