প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ জুলাই, ২০২৬: আগরতলার মহারাজ বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরে অ্যাপ-ভিত্তিক উবার (Uber) অটো বুক করাকে কেন্দ্র করে যাত্রী হয়রানি ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর। ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত দুই স্থানীয় অটোচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পারমিট।
যাত্রী বিনিতা ঘোষ জানান, গত ২৪ জুলাই চেন্নাই থেকে চিকিৎসা করিয়ে অসুস্থ মা-বাবাকে নিয়ে আগরতলা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। বিমানবন্দর চত্বর থেকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তারা একটি উবার অটো বুক করেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন অটোচালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে তাদের পথ আটকায় এবং বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন: চলন্ত অবস্থায় উবার অটের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার প্রবীণ ও অসুস্থ মা-বাবার সাথে অত্যন্ত কুরুচিকর ব্যবহার ও হেনস্তা করা হয়। প্রতিবাদ জানালে তাদের বিভিন্ন আইনি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে অনেক তর্কবিতর্কের পর প্রবীণ এক ব্যক্তির হস্তক্ষেপে গাড়ির চাবি ফেরত পান তিনি। বাড়ি ফিরে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয় রাজ্য পরিবহন দপ্তর। পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর নির্দেশে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। এই বিষয়ে বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিনিতা ঘোষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ঝুটন আচার্য ও দীপঙ্কর দেবনাথ নামে দুই অটোচালককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী বিনিতা ঘোষকে বিমানবন্দর থানায় ডেকে এনে পুলিশি পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের শনাক্ত করার পর তিনি প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রাজ্য পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে বিমানবন্দরে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে আরও সুদৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








