সাব্রুমে বেপরোয়া যান চলাচলের শিকার জিআরএস কর্মী! ট্রাফিক ব্যবস্থায় কড়া নজরদারির দাবি

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ জুলাই, ২০২৬: ​ দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার পশ্চিম জলেফা ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এক জিআরএস (GRS) কর্মীর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে ৪২ বছর বয়সী বিপ্লব দে নামে ওই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে গুরুতর জখম হন। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও বাসিন্দাদের একাংশের ধারণা, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের ধাক্কাতেই এই পরিণতি, যা এলাকায় পথনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের মেয়েকে বাড়ির কাছের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পৌঁছে দিয়ে হেঁটে ফেরার পথেই তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। রাস্তায় নিথর ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা তৎক্ষণাৎ সাব্রুমের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরে খবর পাঠান। দমকল কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকার্য চালিয়ে তাকে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা তাকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

দুর্ঘটনার পেছনে একটি বেপরোয়া গতির অটোরিকশার যোগসূত্র নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও, পুলিশের তরফ থেকে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। খবর পেয়ে সাব্রুম থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে জখম ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয় এবং এটি কেবলই দুর্ঘটনা নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাব্রুমে বেপরোয়া যান চলাচল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের চরম শিথিলতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিপূর্বেও ওই একই এলাকায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় সাব্রুম মহাবিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল—যে ঘটনায় আদালত সম্প্রতি দোষীকে সাজাও শোনায়। এত কিছুর পরও পুলিশ ও ট্রাফিক প্রশাসনের উদাসীনতায় পরিস্থিতির কোনো সুরাহা হয়নি।

ঘটনার পর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে গতিসীমা নির্ধারণ, কঠোর নজরদারি এবং মোটরযান দপ্তরের উদ্যোগে নথিহীন ও পারমিটবিহীন যাত্রীবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনুক প্রশাসন—এমনটাই দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

Leave a Comment