তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় তছনছ নেপাল-তিব্বত সীমান্ত: মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছুঁইছুঁই, সন্ধান মিলছে না ১,৪০০ জনের

প্রগতি ত্রিপুরা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে তছনছ হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বরফশীতল জল ও কাদার tsunami-র মতো প্রবল স্রোতে আস্ত গ্রাম ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৯২ জন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এখনও নিখোঁজ ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ। বরফাবৃত হিমালয়ের বুকে একের পর এক ঘরবাড়ি, সেতু ও ড্যাম চুরমার হয়ে গিয়েছে, খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে অসংখ্য যানবাহন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যায় বিদেশী পর্যটক ও তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বত দর্শনে যাওয়া পুণ্যার্থীরা রয়েছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, একটি বিশালাকার হিমবাহ ভেঙে পড়ার (Glacial Collapse) কারণেই কাদা ও কাদার ধ্বংসাবশেষ সমন্বিত এই প্রলয়ংকারী রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিশ্বজুড়ে দ্রুত হিমবাহ গলছে, যার ফলে হিমবাহজনিত হরপা বান ও ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনা, উদ্ধারকারী দল ও স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কাদার নিচ থেকে দেহ ও জীবিতদের উদ্ধার করতে চলছে আপ্রাণ প্রচেষ্টা। তিমুরে শহরের এক নেপালি কাস্টমস এজেন্ট উদ্ধার পাওয়ার পর হাহাকার করে বলেন, “সব কিছু বালু ও পাথরে পরিণত হয়েছে, যা মানুষের রক্তে লাল হয়ে আছে। এলাকাটি যেন এক বিরাট শ্মশানে পরিণত হয়েছে।”

নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, তারা এখনও পর্যন্ত ৩৮৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, দেশটির পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী ৫১৭ জন বিদেশী পর্যটক সহ প্রায় ৯১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতের জিরোং পোর্টে কাদা ধসে ৩ জনের মৃত্যু ও ২৬০ জন বিদেশীসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বেইজিং। সব মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক ভারতীয়, ৯০ জন আমেরিকান এবং অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছেন।

হিমালয় অঞ্চলের এই প্রলয়ঙ্করী ধস ও বন্যাকে ‘স্থলভাগের সুনামি’ (Inland Tsunami) বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির পরিবেশ ঐতিহাসিক রুথ গ্যাম্বল জানান, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে জল ও কাদার এই ধ্বংসাত্মক স্রোত প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে নেপালের দিকে ধেয়ে আসে।

এদিকে নদীর উজানে পাহাড়সম ধ্বংসাবশেষের জাঁতাকলে জল জমে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয়বার বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ থেকেও আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গভীর শোকপ্রকাশ করে প্রার্থনা করেছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু দ্যলাই লামা ও ভারতীয় আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু। পরিস্থিতির মোকাবিলায় চীন ও নেপাল সরকার পূর্ণ শক্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment