প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ জুলাই, ২০২৬: উত্তর ত্রিপুরা জেলার প্রশাসনিক সদর ধর্মনগরে রাস্তা নির্মাণে মারাত্মক অনিয়ম ও আর্থিক অস্বচ্ছতার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রায় ১৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৯৪ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়ক প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনগণের করের টাকায় দায়সারা কাজ চালিয়ে মোটা অংকের অর্থ পকেটে পুরছে ঠিকাদারি সংস্থা— এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দকৃত অর্থ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে রাস্তার কাজের চরম গাফিলতি চোখে পড়ছে। কোনো মতে কেবল বালি ও পাথর ছড়িয়ে কাজ শেষ দেখানোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “যদি গুণগত মানই বজায় না থাকে, তবে এই বিপুল খরচে কার উন্নয়ন হচ্ছে?”
তবে শুধু কাজের মানই নয়, ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিস্ফোরক অভিযোগ। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা জহর চক্রবর্তীর নাম ভাঙিয়ে পিন্টু কুমার গুপ্ত নামক এক ব্যক্তির নামে এই কাজের বরাত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধি তথা নবনির্বাচিত বিধায়কের ভাবমূর্তি ব্যবহার করে একশ্রেণীর অসাধু চক্র এখানে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শহরজুড়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছে, “আমরা প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট দাবি জানাচ্ছি, পুরো প্রকল্পটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক। রাস্তার কাজের গুণগত মান, প্রকৃত ব্যয় এবং বাস্তব অগ্রগতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করে সত্য সামনে আনুক দপ্তর। জনস্বার্থ রক্ষায় দায়ীদের চিহ্নিত করতেই হবে।”
যদিও এই পুরো ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়েনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের করের টাকায় হওয়া এই ধরণের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন কী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর ধর্মনগরবাসীর।








