প্রগতি ত্রিপুরা, ২ জুলাই, ২০২৬। আনুমানিক ৮টা। নলছর মায়ারানী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রতন দেবনাথ তখনও বাড়ি ফেরেননি। তার একমাত্র ছেলে অনুপম দেবনাথ কর্মসূত্রে রয়েছেন চেন্নাইতে। বাড়িতে তখন সম্পূর্ণ একা ছিলেন রতন বাবুর স্ত্রী অঞ্জলি রানী দেবনাথ। অভিযোগ, এই সুযোগকেই কাজে লাগায় ওত পেতে থাকা ডাকাত দল।
প্রথমে তারা দরজার গ্রিল ধরে নাড়াচাড়া করতে থাকে। তবে ভেতরে থাকা অঞ্জলি দেবী কোনো সাড়া দেননি। এরপরই ডাকাত দল এক অভিনব ও চতুর কৌশল অবলম্বন করে। ঘরের ঠিক পেছনে থাকা জলের ট্যাপটি তারা খুলে দেয়। জলের একটানা শব্দ শুনে অঞ্জলি দেবী ভাবেন, হয়তো পাশের বাড়ির দুই নাতনি দুষ্টুমি করে জল ছেড়ে দিয়েছে।
জল বন্ধ করার জন্য তিনি যেমনই পেছনের দরজাটি খোলেন, অমনি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুই ডাকাত তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অঞ্জলি দেবীর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘরের ভেতর আলমারি ও লকার তছনছ করে ডাকাতরা।
মাত্র কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে ঘর থেকে লুটে নেওয়া হয় প্রায় তিন ভরি সোনার গয়না এবং নগদ টাকা। শুধু তাই নয়, চেন্নাই প্রবাসী ছেলে অনুপম দেবনাথের শখের একটি ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরাও নিয়ে চম্পট দেয় ডাকাত দল। এই ক্যামেরাটি দিয়েই অনুপম বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিডিও বা ছবি তোলার কাজ করতেন।
তবে তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে এক ডাকাত তার জুতো জোড়া অকুস্থলেই ফেলে রেখে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই মেলাঘর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ফেলে যাওয়া জুতোটি উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে শান্ত এলাকায় সন্ধ্যার পরপরই এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।








