অনলাইন ডেস্ক, ১জুলাই, ২০২৬: খোয়াই জেলা দীর্ঘদিন ধরেই পতঙ্গবাহিত রোগ, বিশেষত ম্যালেরিয়ার দিক থেকে একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ধারাবাহিক পরিকল্পনা, নিবিড় নজরদারি, সময়োপযোগী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতামূলক কাজের ফলে জেলার ম্যালেরিয়া পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। জানুয়ারি-জুন ২০২৫ এবং জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়কালের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, খোয়াই ও তেলিয়ামুড়া-এই দুই মহকুমায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২০২৫ সালের ১৪৬টি থেকে ২০২৬ সালের একই সময়ে মাত্র ১৬টিতে নেমে এসেছে।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা জেলার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। দুই মহকুমার মধ্যে তেলিয়ামুড়া মহকুমায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালে ১২৭ জনের ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হলেও, ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে মাত্র ১২টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৯০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ভেক্টর সার্ভেইল্যান্স, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা প্রদান, আক্রান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে গৃহীত উদ্যোগ, কীটনাশক-প্রক্রিয়াজাত মশারি বিতরণ ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচারাভিযান। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
একই সঙ্গে সকল নাগরিককে মশারি ব্যবহার, জ্বর দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষা করানো এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশার প্রজনন রোধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। থোয়াই জেলার এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। খোয়াই জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।








