মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচি, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান করা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক,২৪ জুন, ২০২৬: সমস্যা পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার লক্ষ্য নিয়ে আজও মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে চিকিৎসা সহ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের মানবিক ও জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটে চলছে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির মাধ্যমে। আজকের কর্মসূচিতে মূলত বিভিন্ন জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরিবার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন খোয়াই জেলার দুর্গানগরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বণিক, যার কন্যা হৃদরোগে আক্রান্ত, আমতলির নরেশ দেববর্মার কন্যা বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত, আগরতলার জয়শ্রী দে চন্দ স্বামীর ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য, প্রতিমা ঋষিদাস আসেন স্বামীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে।

এছাড়াও দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ির প্রিয়তোষ দেবনাথের পক্ষে তাঁর ছেলে বাপি দেবনাথ, শান্তিরবাজারের উত্তম দাস, লঙ্কামুড়ার কালীমোহন দাস, হাপানিয়ার ধ্রুব চৌধুরী সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চিকিৎসা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আজকের মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে সম্প্রতি নদীতে ডুবে মৃত ঈশানচন্দ্রনগরের রাকেশ শীল এবং কাটাখালে ডুবে মৃত আড়াই বছরের শিশু সাত্বিকা শো-এর পরিবারের সদস্যদের হাতে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে পরিবারপিছু ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক দৃষ্টান্তের কথাও আজ উঠে আসে। কিছুদিন আগে বিরল অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ২২ বছর বয়সী দীপ্তনু পালের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসার জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতা ও সেবামূলক উদ্যোগে বর্তমানে দীপ্তনু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। একসময় যে যুবক হাঁটাচলা, হাত পা নাড়ানো এমনকি কথাও বলতে পারতেন না, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এজন্য দীপ্তনুর পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একইরকম ভাবে আজ দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ির প্রিয়তোষ দেবনাথের ছেলে বাপি দেবনাথ তাঁর বাবার গুরুতর লিভারজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এক বছর আগে তাঁর মা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছিল।

সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ বাবার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা ও আন্তরিকতা তাঁদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান করা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই সরকারের কাজ করার শক্তি এবং অনুপ্রেরণা বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজকের মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. বিধান গোস্বামী, আইজিএম হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. নির্মল বিশ্বাস, অটল বিহারী বাজপেয়ী রিজিওনাল ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. শিরোমণি দেববর্মা প্রমুখ।

Leave a Comment

গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে