অনলাইন ডেস্ক, ১১ জুন ২০২৬: ভারতের মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসূতি পরিষেবার ইতিহাসে এক অনন্য মাইল ফলক স্পর্শ করল ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান’। গত ৯ জুন সারা দেশের সাথে ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই অভিযানের ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। গত ১০ বছরে এই অভিযানটি প্রসূতি মায়েদের জন্য কেবল স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ মাতৃত্বের এক ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ফটিকরায় পিএইচসি-র তত্ত্বাবধানে বিগত এক দশকে অনেক গর্ভবতী মা নিয়মিত চেক-আপ, কাউন্সেলিং এবং অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রসবকালীন ঝুঁকি কমিয়ে মা ও নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করা। এই দিনে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই দীর্ঘ যাত্রার সাফল্য স্মৃতিচারণ করেন। এই কর্মসূচির সাফল্য কোনো একক প্রচেষ্টার ফল নয়, ফটিকরায় পিএইচসি-র চিকিৎসক, নার্সিং অফিসার, এএনএম, আশা কর্মী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে এই অভিযান এক সাফল্যের রূপ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেডিকেল অফিসার ডাঃ রত্নদ্বীপ দে বলেন, ‘দশ বছর আগে যে স্বপ্ন নিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তার প্রতিফলন প্রসূতি মা ও তাদের সুস্থ শিশুদের হাসিতে দেখা যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে আশা কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং আমাদের মেডিকেল অফিসারদের সঠিক দিকনির্দেশনাই এই সাফল্যের চাবিকাঠি। এই বিশেষ দিবসে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে সকল স্তরের স্বাস্থ্যকর্মী, ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার এবং সেই সমস্ত সুবিধাভোগী মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়, যারা এই অভিযানের ওপর আস্থা রেখেছেন। ফটিকরায় পিএইচসিতে উপস্থিত প্রসূতি মায়েদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ১০ বছরের কাজের একটি সংক্ষিপ্ত রিপোর্টও তুলে ধরা হয়, যেখানে দেখা যায় যে, সময়মতো চেক-আপের ফলে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- “সুস্থ মা, সুস্থ শিশু, সুস্থ ভবিষ্যৎ”। এই ১০ বছর পূর্তি কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং আগামী দিনগুলোতে মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত, সহজলভ্য এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করার এক অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানের শেষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার জানান, আমাদের লক্ষ্য একটাই-প্রতিটি গর্ভবতী মা যেন নিরাপদ ও গুণগত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান। আমরা এই সংকল্প নিয়ে আগামী দিনগুলোতেও কাজ করে যাব। ঊনকোটি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয় থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








