প্রগতি ত্রিপুরা, ৭ মে, ২০২৬। খবরের জেরে প্রখর রৌদ্রের মধ্যে ছাতা মাথায় নিয়ে জম্পুইজলা ব্লকের চিকন ছড়ায় কৃষকদের জমিতে ছুটে গেলেন এক ঝাঁক কৃষি আধিকারিক। তারা কথা বলেন চিকন ছড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে।
কৃষি আধিকারিকদের ফসলের মাঠে পেয়ে সমস্ত বিষয় তাদের কাছে তুলে ধরেন কৃষকরা। কিভাবে চিকন ছড়া এলাকার কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে সর্বদিক দিয়ে। তাদেরকে বিগত ১০ বছর ধরে এগ্রিকালচার থেকে কোনরকম সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি কিছুই দেওয়া হচ্ছে না।
এমনকি কিভাবে তারা ফসলের মাঠে চাষবাস করে উৎপাদন বাড়াবে সেই বিষয়েও তাদেরকে কোন ধরনের উপদেশ দিচ্ছে না। কিছুদিন পূর্বের কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে চিকন ছড়া এলাকার কৃষকদের সমস্ত ধরনের শাকসবজি জলে এবং শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। এগ্রিকালচার দপ্তরের কেউ তাদের জমিতে পা রাখেনি। তাদের খোঁজ খবর নেয়নি।
কৃষকরা আধিকারিকদের কাছে পেয়ে সমস্ত বিষয়ে তাদের কাছে তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন জানান। কৃষি আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বলছেন আপনারা কেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কৃষকরা বলছে আমরা যোগাযোগ করেও আপনাদের কাছ থেকে কোন কিছুই সাহায্য পাই না।
যারা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত নয় তারা সমস্ত ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে সার বীজ কীটনাশক পাচ্ছে। আর আমরা যারা কৃষির সঙ্গে যুক্ত আমরা কিছুই পাচ্ছিনা। এখন থেকে আপনাদেরকে সবকিছু দেওয়া হবে বলে ফসলের মাঠে দাঁড়িয়ে চিকন ছড়া এলাকার কৃষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কৃষি আধিকারিকরা।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপাহীজলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র সাইন্টিস্ট ডক্টর শত বিষা সরকার বলেন আমরা এখন থেকে চিকন ছড়া এলাকার কৃষকদের খোঁজখবর নেব। তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করব। একইভাবে ফসলের মাঠে দাঁড়িয়ে জম্পুইজলা ব্লকের প্রমোদনগর এগ্রি সেক্টর অফিসার মেহের জমাতিয়া বলেন আমরা তো সব সময় তাদের খোঁজ খবর রাখি। আমরা তো তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করি।
এই কথা শুনা মাত্র রাগে ফেটে পড়েন কৃষকরা। তারা বলেন যদি আপনারা আমাদের সাহায্য করে থাকেন তাহলে আপনাদের দপ্তরে গিয়ে খাতা বের করুন বিগত ১০ বছরে আমাদেরকে কোন সাহায্য করেছেন কিনা , আপনাদের এগ্রিকালচারের খাতায় আমাদের চিকন ছড়া ভিলেজের ১০ জন কৃষকের নাম আছে কিনা।
একইভাবে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র সাইন্টিস্ট ডক্টর শত বিষা সরকার কে ও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে চিকন ছড়া এলাকার কৃষকরা। তিনি বলছেন কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে নাকি কৃষকদের কৃষি দ্রব্য সামগ্রী সার বীজ ঔষধ কিছুই দেওয়া হয় না। এখানে শুধু কৃষকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষতা বাড়ানো হয়।
এই কথা বলা মাত্র কৃষকরা চ্যালেঞ্জের জুড়ে দেন কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক কে। তারা বলেন আমাদের সামনে দিয়ে গাড়ি ভর্তি করে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে জমিতে স্প্রে করার মেশিন নিয়ে যাওয়া হয় ফকিরামুড়া এলাকার কৃষকদের জন্য।
অথচ আমাদের এলাকায় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থাকার পরেও আমাদেরকে কোন কিছু দেওয়া হয় না। যার ফলে আমরা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে চাষবাস করি। অথচ কৃষিমন্ত্রী সব সময় বলেন কৃষি আধিকারিকদের ফিল্ডে যাওয়ার জন্য।
তারা তো ফিল্ডে আসেই না চিকন ছড়া এলাকায়। ফসলের মাঠে দাঁড়িয়ে চিকন ছড়ার কৃষকরা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন কৃষি আধিকারিকদের। ফসলের মাঠে হঠাৎ করে সংবাদমাধ্যমকে দেখে নাভিশ্বাস উঠে যায় কৃষি আধিকারিকদের।
তারা আমতা আমতা করে বলে এখন থেকে সমস্ত রকম সাহায্য সহযোগিতা করা হবে চিকন ছড়ার কৃষকদের। একইভাবে কৃষকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন জম্পুই জলা বিএল ডব্লিউ দেব কুমার কর ই,র বিরুদ্ধে। তিনিও কোন ধরনের খোঁজ খবর নেন না অভিযোগ করে চিকন ছড়ার কৃষকরা।
সেক্টর অফিসার বিএল ডব্লিউ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক ছাড়াও এই ভিজিট টিমে ছিলেন কে বি কে,র সাবজেক্ট মেটার স্পেশালিস্ট ডক্টর লোয়াং লাইমা, ডক্টর আয়েম পুষ্পারাণী, ডক্টর উৎপল দে এবং ডক্টর জয় কুমার।
প্রতিবাদী কলমের খবরের জেরে নড়ে চড়ে বসে গোটা জম্পুইজলা মহকুমার কৃষি বিভাগ। সিপাহীজলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু চিকন ছড়ার কৃষকদের অভিযোগের কাছে নতজানু হয়ে যায় ফসলের মাঠে সিপাহীজলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিকরা। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হয় তাদের।
চাপে পড়ে ফসলের মাঠে এসে চিকন ছড়ার কৃষকদের সর্বতোভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোন রকমে নিজেদের চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন কৃষি আধিকারিকরা এমনটাই অভিযোগ উঠেছে গোটা জম্পুইজলা এলাকায়।








