বক্সনগরে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ১৩৩তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বক্সনগর দ্বাদশ শ্রেণীর বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে ‘মন কি বাত’ শ্রবণ করেন রাজ্যের রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।

রবিবার সকাল প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজ্যপাল বিদ্যালয়ে পৌঁছালে বক্সনগর বিধানসভার বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন-এর পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া ও উত্তরীয় দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ‘মন কি বাত’ শ্রবণে অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক, জেলা পুলিশ আধিকারিক বিজয় দেববর্মা, শিক্ষা দপ্তরের ডিরেক্টর, বক্সনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন, বক্সনগর ব্লক আধিকারিক সন্দীপ কুমার পাল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা যশোদা ছেত্রীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই ১৩৩তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশের কুটির শিল্পের কথা তুলে ধরেন।তিনি বলেন,রাজ্যের কারিগরদের নিপুণ হাতের কাজ আজ জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হচ্ছে এবং মুম্বাই ও দিল্লির মতো শহরেও এইসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।ক্ষুদ্র কুটির শিল্পকে কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা যায়,সে বিষয়ে কারিগরদের উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ত্রিপুরার নাম প্রধানমন্ত্রীর মুখে উচ্চারিত হওয়ায় দিনটিকে গর্বের বলে উল্লেখ করেন উপস্থিতরা। রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজ প্রধানমন্ত্রীর মুখে ত্রিপুরার জয়গান শোনা গেল। এক কথায়,ত্রিপুরার বাঁশ শিল্প এখন বিশ্বজয়ের পথে।”অনুষ্ঠান শেষে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

পরবর্তী সময়ে রাজ্যপাল বক্সনগরের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন—বুদ্ধ স্তূপ পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রত্নস্থলে তিনটি প্রাচীন মনুমেন্ট রয়েছে, যা বহু শতাব্দী আগে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। ১৯৮০-র দশকে আলী আজগর নামে এক ব্যক্তি এখানে বসবাসকালে ব্রোঞ্জের মূর্তি ও প্রাচীন মুদ্রা আবিষ্কার করেন, যার পরই প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের উদ্যোগে স্থানটি সংরক্ষণের আওতায় আসে।

২০০২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এই স্থানে খনন কাজ চলে এবং বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে স্থান করে নিচ্ছে। পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ব্যয়ে একটি গেস্ট হাউসও নির্মিত হয়েছে।

সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হলে এই স্থানটি ভবিষ্যতে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে এবং স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল জানান,এই বুদ্ধ স্তূপকে আরও কীভাবে সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা যায়,সে বিষয়ে তিনি চিন্তাভাবনা করবেন।

Leave a Comment