ত্রিপুরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে গড়ে উঠছে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আজ জেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে জেলাভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। বৈঠকের সূচনায় জেলাশাসক ড. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলই, সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, এম.ডি.সি. উমাশঙ্কর দেববর্মা, পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা এবং ডি.এফ.ও. অতনু চক্রবর্তী সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকগণ। বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ত্রিপুরা বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে গড়ে উঠছে। সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সিপাহীজলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় ‘বর্ডার ট্যুরিজম হাট’ গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। কমলাসাগরের ঐতিহ্যবাহী কসবেশ্বরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশংসা করে বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলে একযোগে কাজ করছেন। ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্প জেলার মহিলাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে। এছাড়া ত্রিপুরার অন্যতম সম্পদ বাঁশকে ভিত্তি করে শিল্প সম্ভাবনা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। বাঁশজাত পণ্য থেকে জুয়েলারি ও উপহার সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আগরতলা থেকে আখাউড়া (বাংলাদেশ) পর্যন্ত নির্মিত রেললাইন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রসার ঘটবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রচার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য অনেকগুলি পুরস্কার পেয়েছে।

এর মধ্যে সিপাহীজলা জেলার প্রাপ্ত ‘ন্যাশনাল ওয়াটার অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জেলার অধিকাংশ সরকারি দপ্তরে ই-অফিস পরিষেবা চালু হয়েছে এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া জেলার ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ‘আলোর দিশারী’ মহিলা ক্লাস্টারের হাতে ১,০৬,৪০,০০০/- টাকা এবং গোকুলনগর ক্লাস্টারের হাতে ১,৪২,৪০,০০০/- টাকার দুটি চেক তুলে দেন। সরকারি প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়ন ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিপাহীজলা জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Comment