প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৫: উত্তর ত্রিপুরায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিভাবের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৮তম জন্মজয়ন্তী মহোৎসব। ত্রিপুরার উত্তর জেলার শনিছড়া বাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এই মহোৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। জন্মজয়ন্তী মহোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে রবিবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা। এই স্বাস্থ্য শিবিরে শত শত সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেন।
উপস্থিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পেয়ে খুশি শিবিরে আগত মানুষজন। স্বাস্থ্য শিবির উদ্বোধনের পর মন্ত্রী সান্তনা চাকমাকে মহোৎসবের ভাণ্ডারায় প্রসাদ বিতরণ করতে এবং নিজেও প্রসাদ গ্রহণ করতে দেখা যায়। তাঁর এই সরল ও আন্তরিক অংশগ্রহণ ভক্তদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস ও আবেগের সৃষ্টি করে।
এদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাগবাসা বিধানসভার বিধায়ক যাদব লাল নাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির সভাপতি কানাইলাল চৌধুরী পরিমল মালাকার সহ কমিটির অন্যান্য পদাধিকারীরা। মহোৎসব উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শ্রীশ্রী ঠাকুরের নামসংগীত, ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান এবং দেওঘরের অবিন দার নির্মিত “হোয়াইট ব্যান্ড”-এর মনোজ্ঞ পরিবেশনা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এবছরের জন্মজয়ন্তী মহোৎসবের নামকরণ করা হয়েছে “স্বস্থিদীপনি”, যা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সকলকে মুগ্ধ করে।
ত্রিপুরা–আসাম সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শনিছড়া অঞ্চলে আয়োজিত এই মহোৎসবে ত্রিপুরার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য আসাম থেকেও বহু ভক্তের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যায় ভক্তদের মনোরঞ্জনের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী নিহারিকা।
দূরদর্শনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, উৎসব কমিটির সভাপতি কানাইলাল চৌধুরী এবং বিধায়ক যাদব লাল নাথ জানান, এই জন্মজয়ন্তী মহোৎসবে ত্রিপুরার আটটি জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
পাশাপাশি উত্তর জেলার জম্পুই হিল, কাঞ্চনপুর, পানিসাগর, ধর্মনগর ও কদমতলা সহ বিভিন্ন মন্দির এলাকা থেকেও ভক্তদের ঢল নেমেছে। ভক্তদের এই বিপুল উপস্থিতি ও মহোৎসবের ব্যাপক আয়োজন প্রমাণ করে, শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আদর্শ, শিক্ষা ও মানবতাবাদী দর্শন আজও মানুষের জীবনে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক এবং প্রেরণাদায়ক হয়ে আছে।








