সড়ক সুরক্ষা অভিযান: জানুয়ারি মাসকে জিরো ফ্যাটেলিটি মাস ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক, ৩ জানুয়ারী ২০২৬: কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী ত্রিপুরা সরকারের পরিবহন দপ্তর ‘সড়ক সুরক্ষা অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে জানুয়ারি ২০২৬ কে জিরো ফ্যাটেলিটি মাস হিসেবে ঘোষনা করেছে।

এই উদ্যোগের পিছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা প্রচার করা যে, নির্দিষ্ট তথ্য নির্ভর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ ও কমানো যায়। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক Save life foundation (SLF) নামে একটি সংস্থাকে নিযুক্ত করেছে জিরো ফ্যাটেলিটি মাস উদযাপনে রাজ্যগুলিকে টেকনিক্যাল সহায়তা দেওয়ার জন্য।

উল্লেখ্য, SLF তার কাজের মাধ্যমে সারা দেশে দুর্ঘটনা প্রবণ জায়গাগুলিতে দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমাতে সফল হয়েছে। সমস্ত জেলা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মাধ্যমে এই চার সপ্তাহব্যাপী জিরো ফ্যাটলেটি মাস পালন করা হবে মূলতঃ তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে।

এগুলি হচ্ছে তথ্য নির্ভর ঝুঁকি চিহ্নিত করা, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নজরদারি ও পর্যালোচনা। প্রতিটি জেলায় তিনটি সবচেয়ে বিপজ্জনক সড়ক করিডোর (কমপক্ষে ৫ কিমি পর্যন্ত) চিহ্নিত করা, দুর্ঘটনার সময়, রাস্তা ব্যবহারকারীদের মধ্যে কাদের বেশি ঝুঁকি রয়েছে, কি ধরনের দুর্ঘটনা হচ্ছে ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা এবং বেসলাইন ড্যাটার উপর ভিত্তি করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

দ্বিতীয়তঃ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গতি নিয়ন্ত্রন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা, রাস্তায় মার্কিং করা সাইন বোর্ড, পথচারিদের জন্য আলাদা সুবিধা, লাইটিং, ডিভাইডার লাগানো, মেডিয়ান গ্যাপ ট্রিটমেন্ট, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, জংশনগুলির উন্নয়ন ইত্যাদি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মধ্যে আরো রয়েছে মদত্ত হয়ে গাড়ি চালানো, বেশি গতিতে ড্রাইভিং, ভুল সাইডে ড্রাইভিং, সিট বেল্ট ও হেলমেট ছাড়া ড্রাইভিং প্রতিরোধ করা, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকার কাছাকাছি এম্বুলেন্স-এর সুবিধা রাখা ও ট্রমা কেয়ার-এর সুবিধা উন্নত করা, ব্যবসায়িক ভিত্তিক চালানো গাড়ির ড্রাইভার, ট্রান্সপোর্ট অপারেটর, স্কুল, কলেজ ও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

নজরদারি ও পর্যালোচনামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জেলা স্তরের টাস্ক ফোর্সের সাপ্তাহিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর তার সাপ্তাহিক রিপোর্ট পেশ করতে হবে। জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি মুখ্যসচিব বা নোডাল অফিসারের সভাপতিত্বে একটি রাজ্য স্তরীয় বৈঠক করতে হবে। এই উদ্যোগে পরিবহন, পুলিশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা দপ্তর, শহরে ও গ্রামীণ স্ব-শাসিত সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধুমাত্র জানুয়ারি ২০২৬-এ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও হ্রাস করলে হবে না এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অর্জন করতে জাতীয় স্তরে ২০৩০-এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। রাজ্য পরিবহন দপ্তর থেকে এ সংবাদ জানানো হয়েছে।

Leave a Comment