স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচেষ্টায় মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধের জীবনলাভ

অনলাইন ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫: দক্ষিণ জেলায় রূপাইছড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাতকছড়ি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে পঞ্চায়েত টিলা এলাকায় মৃতপ্রায় বৃদ্ধের জীবনলাভ ঘটল স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়। রূপাইছড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাতকছড়ি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। পঞ্চায়েত টিলা এলাকার বাসিন্দা ৬৮ বছরের সাধন চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন।

গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুরে হঠাৎ করে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং মুখ দিয়ে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বের হতে থাকে। তৎক্ষণাৎ তার হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস থেমে যায় এবং মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই চাতকছড়ি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের কমিউনিটি হেলথ অফিসার কিশোর কুমার পাল এবং মাল্টিপারপাস ওয়ার্কার কান্তি ত্রিপুরা খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন। রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। তারা সঠিক সময়ে কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) শুরু করেন, শ্বাসনালী পরিষ্কার করে ম্যানুয়াল ভেন্টিলেশন দেওয়া হয় এবং নেবুলাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু করেন।

মুহূর্তে রোগীর পালস ফিরে আসে, স্পন্দনের হার দাঁড়ায় মিনিটে ৫০ বিটে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর, রোগীর রক্তচাপ ৭০/৩০ এবং পেরিফেরাল অক্সিজেন স্যাচুরেশন (SpO2) মাত্র ৬৫% ছিল, যা উদ্বেগজনক। খবর দেওয়া হয় রূপাইছড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ রাহুল দাসকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রোগীকে দ্রুত সাক্রম মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

অবস্থা বুঝে রূপাইছড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ রাহুল দাস রোগীকে দ্রুত সাক্রম মহকুমা হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে ডাঃ রাকেশ মজুমদার তার চিকিৎসা পরিচালনা করেন। রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয় এবং অক্সিজেন দেওয়া হয়। বিকেল নাগাদ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এরপর এদিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ রোগীকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

Leave a Comment