জনতার চাপে নতি স্বীকার,প্রসেনজিৎ সরকারের রহস্যমৃত্যুতে গ্রেপ্তার তিন মূল অভিযুক্ত

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫: অবশেষে জনতার প্রবল চাপের মুখে ত্রিপুরার ধর্মনগরের পার্সেল ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ সরকারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করল পুলিশ।

পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে তিনজন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ধর্মনগর থানার পুলিশ। ধৃতরা হলেন—সঙ্গিতা ভট্টাচার্য, সুস্মিতা ভট্টাচার্য ও সৌরভ ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার সকালে অসম পুলিশের সহায়তায় অসমের শ্রীভূমি জেলার শ্রীভূমি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের চুরাইবাড়ি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানান, ধৃতদের আদালতে পাঠানো হবে এবং ইতিমধ্যেই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি জনসাধারণের কাছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বজায় রাখার আবেদন জানান। এদিকে আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।পরে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এসময় আদালতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ধর্মনগরের কামেশ্বর এলাকায় উদ্ধার হয় ব্লু-ডার্ট কুরিয়ার সংস্থার ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকারের ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ, পার্সেল ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একদল গ্রাহকের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ।

সেই নির্যাতনের ফলেই তার এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই ধর্মনগর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়। এরপর থেকেই দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে ধর্মনগর সহ গোটা রাজ্য জুড়ে আছড়ে পড়ে প্রতিবাদের ঢেউ।

একের পর এক বিক্ষোভ, মিছিল ও থানা ঘেরাওয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। যদিও পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও বাকি দু’জন অভিযুক্ত এখনো অধরা।

ফলে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, প্রসেনজিতের মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও সাহায্য সহযোগিতার।

প্রসেনজিৎ ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর অকাল মৃত্যুর ফলে পরিবারটি আজ কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ধর্মনগর সহ গোটা ত্রিপুরার মানুষ। তবে আপাতত আন্দোলন থামছে না—ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই জারি রাখার বার্তা স্পষ্ট আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে।

Leave a Comment