অনলাইন ডেস্ক, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫: ত্রিপুরা হচ্ছে মিশ্র সংস্কৃতির রাজ্য। রাজ্য সরকার ধামাইল, যাত্রা উৎসব ও লোকজ সংস্কৃতির প্রসার সহ হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিন্তু রায় গতকাল বিশালগড় নতুন টাউনহলে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিস্কু রায় বলেন, রাজ্য সরকার রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সংস্কৃতির প্রসারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ধামাইল সিলেট অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজনদের মধ্যে বহুল প্রচলিত হলেও আমাদের রাজ্যেও ধামাইল নৃত্য দিন দিন জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার হল স্বসহায়ক দলের সদস্যা ও মহিলাদের আত্মনির্ভর ও স্বশক্তিকরণ করে তোলা। তিনি বলেন, বর্তমানে নবম শ্রেণী উত্তীর্ণ সকল ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ করা হচ্ছে। মহাবিদ্যালয়ে পাঠরত মেধাবী ছাত্রীদের মধ্যে স্কুটি বিতরণ করা হচ্ছে।
৪,৮০০ জন দুঃস্থ গরিব ছাত্রছাত্রীকে প্রতিমাসে ৪ হাজার টাকা করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্ত্যোদয় পরিবারে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর মেয়েদের বিবাহ দিতে চাইলে ৫০ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য করা হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মহিলা ক্ষমতায়নে বিশেষভাবে কাজ করে চলেছে, যা বাণিজ্যিক, আর্থিক, ক্রীড়া, রাজনৈতিক বহুবিধ ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ত্রিপুরা স্টেট পলিসি ফর ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট ২০২৩ নীতি চালু করা হয়েছে। রাজ্যে ৬০৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬০১১ জন মহিলা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন।
এরমধ্যে ৩০৩ জন মহিলা গ্রাম প্রধান, ১৮ জন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান (মহিলা) এবং ৪ জন মহিলা সভাধিপতি রয়েছেন। এছাড়াও মহিলাদের আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের ৮টি জেলায় ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যে ওমেন হেলথ ওয়েলনেস সেন্টার রয়েছে।
এছাড়াও মহিলারা যাতে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন সেজন্য রাজ্য সরকার নতুন করে ১০টি ওয়ার্কিং ওমেন হোস্টেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে শ্রম আইন অনুসারে মহিলাদের সব কাজেই সমান অধিকার ও সম কাজে সম বেতন এর কথা বলা হয়েছে।
তিনি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব ও মেলা রাজ্যের মহিলাদের আত্মনির্ভরতা ও স্বশক্তিকরণই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, লোকাচার, লোক উৎসব, মেলা আমাদের জনজীবনের মূল ভিত্তি এবং নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য।
রাজ্য সরকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জাতি, জনজাতির মিশ্র সংস্কৃতির ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও পরম্পরায় সমভাবে গুরুত্বারোপ করেছে যা এ ধরণের লোক উৎসবের জন্য এক অন্যতম বার্তা বহন করে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বদেশীয় সংস্কৃতিতে বলীয়ান হয় তার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য সরকার আর্থ, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধ রাজ্য গঠনে এগিয়ে চলেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান অতশী দাস, বিশালগড় পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অঞ্জন পুরকায়স্থ, বিশালগড় পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি তপন দাস, সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ড. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, বিশালগড় মহকুমার মহকুমা শাসক বিংকি সাহা, সিপাহীজলা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের উপঅধিকর্তা পাঞ্চালী দেববর্মা সহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ। দু’দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসবে প্রথমদিনে মোট ১৩টি দল অংশগ্রহণ করে।
দু’দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব ও মেলা উপলক্ষে গতকাল বিশালগড় টাউন দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিশালগড় নতুন টাউন হল পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালি আয়োজিত হয়। এছাড়াও দু’দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব ও মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দপ্তর ও স্বসহায়কদলের ১০টি স্টল খোলা হয়।







