প্রগতি ত্রিপুরা, ১৭ অক্টোবর: চলছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। পুজোর আনন্দে মাতোয়ারা গোটা রাজ্য। চারদিকে উৎসবের আবহ। আর এই উৎসবের মধ্যেই সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য বার্তা উঠে এল সোনামুড়া মহকুমার সীমান্তবর্তী কুলুবাড়ী এলাকায়। যেখানে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে আয়োজন করে আসছেন শারদীয়া দুর্গোৎসব।
আজ মহাসপ্তমী। পুজোর আনন্দে সামিল হয়েছেন এলাকার মানুষ। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ।
পুজো উদ্যোক্তারা জানান, বিগত ২১ বছর ধরে গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন। মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে চাঁদা সংগ্রহ এবং পুজোর বিভিন্ন কাজে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। শুধু দুর্গাপুজোই নয়, বিভিন্ন সামাজিক কাজেও উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ান।
এলাকার বাসিন্দা নুর আলম জানান, গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার রয়েছে। বাকি অধিকাংশ পরিবারই মুসলিম সম্প্রদায়ের। তা সত্ত্বেও দুর্গাপুজোকে ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। হিন্দুদের পুজোয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন আনন্দে সামিল হন, তেমনই ঈদের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দ ভাগ করে নেন। তাঁর কথায়, ধর্ম আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট।
অন্যদিকে, বক্সনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপারসন জানান, এলাকার বাসিন্দা হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখে আসছেন, হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে এই দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছেন। এলাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও পুজো আয়োজনে তাঁদের সহযোগিতা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। আগামী প্রজন্মও যেন এই ঐতিহ্য বজায় রেখে একইভাবে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পুজোর আয়োজন করে, সেই আশাই প্রকাশ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সোনামুড়ার সীমান্তবর্তী এই গ্রামের দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে ধর্মের বিভেদ নয়, বরং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই বড় হয়ে উঠেছে। ২১ বছরের এই ঐতিহ্য আগামী দিনেও অটুট থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার বাসিন্দাদের।







