অনলাইন ডেস্ক, ১৭ অক্টোবর: রাজ্যের যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতে এবং ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজের সার্বিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা সম্ভব। শনিবার কৈলাসহরে ঊনকোটি জেলা যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া কার্যালয় সংলগ্ন রঙ্গলাল দাস মেমোরিয়াল ইনডোর স্পোর্টস হলের উদ্বোধন এবং স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজার সপ্তমীর পুণ্যলগ্নে এই দুটি উদ্যোগ কৈলাসহরের ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। বর্তমান সরকার রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মান জানাতে তাঁদের নামে বিভিন্ন ক্রীড়া পরিকাঠামোর নামকরণ করছে। এর ফলে নতুন প্রজন্ম রাজ্যের ক্রীড়া ইতিহাস ও কৃতী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করবে।
তিনি জানান, দেবভক্তি জমাতিয়ার নামে দশরথ দেব স্টেট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, প্রখ্যাত হকি কোচ স্বদেশপ্রিয় নন্দীর নামে বাধারঘাটে সিন্থেটিক হকি গ্রাউন্ড এবং প্রতুল ভট্টাচার্যের নামে সিন্থেটিক ফুটবল গ্রাউন্ডের নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড. অরুণাভ রায়ের নামে পানিসাগরে সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক এবং মধুসূদন সাহার নামে আমবাসায় যুব আবাসের নামকরণ করা হয়েছে। একই ধারায় কৈলাসহরের কৃতী ফুটবলার রঙ্গলাল দাসের নামে এই ইনডোর স্পোর্টস হলের নামকরণ তাঁর ক্রীড়া অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল গ্রাউন্ড, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক ও সুইমিং পুল-সহ বিভিন্ন আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর, জনজাতি কল্যাণ দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলেছে। কৈলাসহরে আধুনিক ইনডোর স্পোর্টস হল নির্মাণ সেই উদ্যোগেরই অংশ। এখানে খেলাধুলার অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যুবসমাজের মধ্যে নেশার প্রবণতা রোধ এবং ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুবক-যুবতীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাঁদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিকতা এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা বিকশিত হবে। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের উল্লেখ করে তিনি যুবসমাজকে নিজেদের অন্তর্নিহিত শক্তির বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি জীবনে নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারও ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। তাঁর দাবি, গত অর্থবর্ষে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এবং ‘বিকশিত ত্রিপুরা ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে যুবসমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, সুন্দর পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত ত্রিপুরা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় কৈলাসহরে আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, নতুন এই ইনডোর স্পোর্টস হল এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী যুবক-যুবতীদের অনুশীলনের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইনডোর গেমসে প্রতিভা বিকাশের পথও সুগম করবে। খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষে রঙ্গলাল দাসের স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের হাতে সম্মাননা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। উল্লেখ্য, রঙ্গলাল দাস মেমোরিয়াল ইনডোর স্পোর্টস হলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, কৈলাসহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা রাণী দেবরায়, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা মেঘা জৈন, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা এল. ডার্লং এবং ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার ঋষভ।







