নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর: এমজি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ২০২৬-২৭ মরশুমে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। শুক্রবার নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে পরাজিত করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। প্রথমার্ধে লালরিনলিয়ানা হ্নামতে গোল করে দিল্লিকে এগিয়ে দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে লি আরউইন ও মিগেল ফিগেইরার পরপর দুটি গোলে জয় নিশ্চিত করে মোহনবাগান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে। চতুর্থ মিনিটে জুয়ান পেনিয়ার দূরপাল্লার শট সামলাতে হয় মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে। এরপর অষ্টম মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লামগৌলেন হাংসিং। তাঁর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
পাল্টা আক্রমণে মোহনবাগানও গোলের সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাইরে থেকে লি আরউইনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের ক্রস থেকে রাহুল ভেকের শট দিল্লির গোলরক্ষক নোরা ফার্নান্ডেস আটকে দেন।
২৩ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি পায় স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি। মনোজ মহম্মদের বাড়ানো বল থেকে লালরিনলিয়ানা হ্নামতে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় দিল্লি।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও দু’দলই আক্রমণে ওঠে। রদ্রিগিনহোর দূরপাল্লার শট রুখে দেন বিশাল কাইথ। অন্যদিকে, বক্সের বাইরে থেকে মিগেল ফিগেইরার শট আটকে দেন দিল্লির গোলরক্ষক। ৩৯ মিনিটে লি আরউইনের শটও দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন নোরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি আরউইন। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে মাঠে নামে মোহনবাগান। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরায় সবুজ-মেরুন। রাহুল ভেকে বক্সের মধ্যে লি আরউইনের উদ্দেশে বল বাড়ান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান পায়ের শটে বল দিল্লির জালে পাঠান আরউইন। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে মোহনবাগান।
এর মাত্র চার মিনিট পর, ৬০ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। লালেংমাওইয়া রালতের পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন মিগেল ফিগেইরা। পরপর দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারী দল।
গোল শোধের লক্ষ্যে আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে দিল্লি। ৭২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রদ্রিগিনহোর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে, ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করে মোহনবাগান। বক্সের ভিতর থেকে সামির জেলজকোভিচের শট আটকে দেন নোরা ফার্নান্ডেস। কর্নার থেকে আলবের্তো রদ্রিগেজের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের শেষদিকে মনবীর সিংয়ের শটও রুখে দেন দিল্লির গোলরক্ষক।
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি। ৯০+৬ মিনিটে লালরিনলিয়ানা হ্নামতের একটি শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর গোল করতে পারেনি দিল্লি।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই জয়ের ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিজেদের ঝুলিতে ভরল সবুজ-মেরুন শিবির।







