প্রগতি ত্রিপুরা , ০৩ অক্টোবর, ২০২৬: রাস্তা অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মহকুমা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দক্ষিণ ঘিলাতলী গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন ছনখলা এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে রাস্তার উপর তৈরি করা বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জেসিবি দিয়ে খোঁড়া অংশও মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াতিলং ও ছনখলার মধ্যবর্তী পাহাড়ি এলাকায় টিআরপিসির চেয়ারপার্সন পাতাল কন্যা জমাতিয়ার জমি ও বাগান রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর বাগানের সীমানার নেট ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চায়েতের তৈরি জনসাধারণের চলাচলের একটি ইট-সলিং রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কৃষক ও সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন অবরুদ্ধ রাস্তার একটি অংশে জেসিবি দিয়ে ড্রেন কাটার কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই সময় পাতাল কন্যা জমাতিয়ার স্বামী বি.পি. মিনা তাঁদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসেন। এমনকি কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণপুর থানার পুলিশ এবং তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসিএম হরিপদ সরকার। প্রশাসনিক আধিকারিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে প্রশাসনের নির্দেশে জেসিবি দিয়ে খোঁড়া অংশটি ভরাট করা হয় এবং রাস্তার উপর থাকা বাঁশের বেড়া সরিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য পথটি খুলে দেওয়া হয়। এতে স্বস্তি ফিরে আসে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে।
তবে রাস্তা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গ্রামবাসীদের প্রতিনিধি এবং পাতাল কন্যা জমাতিয়ার উপস্থিতিতে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।








