বেহাল যাতায়াত ব্যবস্থা, পানীয় জলের সংকট, জঙ্গলে পরিণত খেলার মাঠ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মান্দাইয়ের আথুকথাং জে বি স্কুল, সমাধানের দাবি

প্রগতি ত্রিপুরা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: যাতায়াতের রাস্তা থেকে শুরু করে পানীয় জল, মিড-ডে মিলের রান্নাঘর, খেলার মাঠ ও শৌচালয়—একাধিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে জর্জরিত মান্দাইয়ের আথুকথাং জে বি স্কুল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানিয়েও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের।

ইন্সপেক্টর অফ স্কুল, মান্দাই-এর অধীনস্থ এই বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় বর্ষাকালে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একটি নদী থাকলেও সেখানে নেই কোনো সেতু বা কালভার্ট। বর্ষার সময় নদীতে জল বেড়ে গেলে জল নামার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এরপর নদী পেরিয়েই ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। ফলে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

বিশেষ করে বর্ষার সময় এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নদী পারাপার করতে হওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য একটি স্থায়ী সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই বলে জানা গেছে। বিশাল একটি খেলার মাঠ থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবহারে সেটি বর্তমানে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল রান্নার জন্য উপযুক্ত রান্নাঘর না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতির পাশাপাশি শৌচালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে একাধিকবার অবগত করা হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে।

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলি এবং তাঁদের দাবির কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা।

Leave a Comment