প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কলমচৌড়া থানাধীন গলাচিপা ও আনন্দপুরের মাঝামাঝি এলাকায় নাকা পয়েন্টের সামনে রাস্তার পাশ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং প্রায় ১২০ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের প্রকৃত মালিক কে,তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।জানা যায়, কলমচৌড়া থানার নাকা পয়েন্ট সংলগ্ন একটি বাঁশের মাচার নিচে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় তার দিয়ে বাঁধা একটি পিস্তল রাখা রয়েছে বলে বিএসএফের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে।
খবর পেয়ে বিএসএফ জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় একটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বাঁশের মাচার ছিদ্রের ভেতর থেকে চারটি প্যাকেটে রাখা প্রায় ১২০ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।এই সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বক্সনগর এলাকার জয়নাল আবদিন এবং দক্ষিণ কলমচৌড়া এলাকার কর্নজিত সরকার নামে দুই যুবককে বিএসএফ জওয়ানরা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে।
পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।ঘটনার খবর পেয়ে কলমচৌড়া ও সোনামুড়া থানার ওসি, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, টিএসআর, বিএসএফের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, ফরেন্সিক দল এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সকলের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত সামগ্রী জব্দ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে নিয়মিত নাকা চেকিং ও নিরাপত্তা নজরদারি থাকার কথা, সেখানে কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্র ও মাদক লুকিয়ে রাখা সম্ভব হলো।
অন্যদিকে, গ্রেফতার দুই যুবকের পরিবারের দাবি, তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র বা মাদক উদ্ধার করা হয়নি এবং ঘটনাস্থলের নিকটে উপস্থিত থাকার কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের সঙ্গে আরও কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না এবং প্রকৃত মালিক কারা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই রহস্যের পরবর্তী চিত্র।








