অনলাইন ডেস্ক, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: আজ আগরতলার গাঙ্গাইল রোডে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে ‘রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল অফ ল্যাঙ্গুয়েজেস’ এবং ‘রামকৃষ্ণ মিশন সেন্টার ফর হিউম্যান এক্সেলেন্স’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো। ত্রিপুরা সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের (Department of Skill Development) সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি রাজ্যে সুসংবদ্ধ বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণের সূচনা করল।
এই কেন্দ্রটি শিক্ষার্থীদের জার্মান, স্প্যানিশ, ফরাসি, জাপানি এবং ইংরেজির মতো বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জি, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কলকাতার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল অফ ল্যাঙ্গুয়েজেসের অধ্যক্ষা সবুজকলি সেন এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা প্রদীপ কে, আইএএস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবেকনগরের রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী শুভকারানন্দ মহারাজ। অনুষ্ঠানে কলকাতার শিক্ষকমণ্ডলীও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বামী শুভকারানন্দ মহারাজ এই উদ্যোগটিকে ত্রিপুরার যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের জন্য ত্রিপুরা সরকার ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সবুজকলি সেন বলেন যে, এই উদ্যোগটি ত্রিপুরার মানুষের জন্য বৃহত্তর বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন সুযোগ বা দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি শ্রোতাদের জানান যে, কলকাতার গোলপার্ক কেন্দ্রে বর্তমানে ২১টি ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং শীঘ্রই হিব্রু ও ডাচ ভাষাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, ভাষা শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে। জাপানি ও চীনা ভাষার মতো ভাষায় দক্ষতা অর্জন যুবকদের অনুবাদক হিসেবে কাজ করার এবং আয়ের সুযোগ করে দিতে পারে। অনুষ্ঠানে দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা প্রদীপ কে. এই উদ্যোগটিকে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথম ও অনন্য বলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, রামকৃষ্ণ মিশন ও ত্রিপুরা সরকারের এই যৌথ প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার সুযোগ করে দেবে এবং বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী`র ওএসডি পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জি বলেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠান তরুণদের কেবল কর্মসংস্থানের সুযোগই করে দেবে না, বরং তাদের জীবনে মর্যাদা ও নৈতিক বিকাশেও সহায়তা করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি পর্যটন এবং ভাষা-নির্ভর অন্যান্য শিল্পে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করবে। ত্রিপুরা সকারের দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর থেকে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








