প্রগতি ত্রিপুরা, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: প্রশাসনের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে তীব্র পানীয় জল সংকটে ভুগছেন ধর্মনগর মহকুমার অন্তর্গত ভাগ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানীয় জল সরবরাহকারী পাইপলাইনটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে থাকায় দৈনন্দিন জলের চাহিদা মেটাতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
পানীয় জলের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বুধবার সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হন।এলাকাবাসীদের মতে, বর্তমান জল সরবরাহ ব্যবস্থাটি গড়ে উঠেছিল প্রায় ৪০ বছর আগে। প্রায় ৩৮ বছর ধরে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সুচারুভাবে জল সরবরাহ হলেও বয়সের ভারে ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে পড়েছে।
বিগত দুই বছর ধরে স্থানীয়রা বারবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। বছরখানেক আগে সাময়িকভাবে কিছু জোড়াতালি দিয়ে জল সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে জোড়াতালি দেওয়ারও আর কোনো সুযোগ নেই। বাসিন্দাদের একটাই দাবি সম্পূর্ণ পাইপলাইনটি দ্রুত নতুন করে বসাতে হবে।
পরিস্থিতি কতটা আশঙ্কাজনক তা ধরা পড়েছে স্থানীয় জল সরবরাহ কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটর দীপক পালের বক্তব্যে। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান, পুরো ব্যবস্থার পাই পলাইন বিকল হয়ে গেছে। শুধু কয়েক জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে জল চালানো অসম্ভব। এমনকি জলের ট্যাঙ্ক পর্যন্ত ফেটে যাওয়ার উপক্রম।
এই বিপজ্জনক অবস্থায় আমি যদি জল সরবরাহ চালু করতে যাই, তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই ঝুঁকি নিয়ে আমি জল ছাড়তে পারব না; আমার জীবনের নিরাপত্তা ও দায় কে নেবে?একটি মাত্র সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর পুরো ভাগ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জল নির্ভর করত। সেই উৎসটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ভাগ্যপুর গ্ৰামের হাজারো মানুষ।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে এলাকায়। এলাকাবাসীর আবেদন কোনো বড় বিপর্যয় ঘটার আগেই যেন পানীয় জল দপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নতুন পাইপলাইন ও জলের ট্যাঙ্ক সংস্কারের স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নতুবা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন এলাবাসী।








