১০ বছর ধরে ছেলে-বউয়ের অত্যাচার, অবশেষে লাঠিপেটা করে বৃদ্ধা মাকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ

প্রগতি ত্রিপুরা, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: যে সন্তানকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছিলেন, সেই সন্তানের হাতেই বিগত এক দশক ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মাকে। অভিযোগ, নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করায় শেষ পর্যন্ত লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও চুল ধরে টেনে তাঁকে নিজের ভিটেমাটি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী থানার অন্তর্গত দক্ষিণ বাধারঘাট চারিপাড়া নব দিগন্ত ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়।

নির্যাতিতা ওই বৃদ্ধার নাম লক্ষ্মী রানী সরকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮-১০ বছর আগে তাঁর স্বামী খোকন সরকারের মৃত্যু হয়। চার মেয়ে ও এক ছেলের জননী লক্ষ্মীদেবী একমাত্র ছেলে সজল সরকারকে অত্যন্ত ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক ছবিটা বদলে যায়। অভিযোগ, ছেলে সজল সরকার এবং পুত্রবধূ মৌসুমী দাস সরকার ক্রমাগত ওই বৃদ্ধার ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিল। বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা তো দূরের কথা, তাঁর সরকারি বয়স্ক ভাতার টাকাও ছেলে ও বৌমা জোর খাটিয়ে ভোগ করে আসছিল বলে অভিযোগ।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। অভিযোগ, অন্যান্য দিনের মতোই সেদিনও সজল ও তার স্ত্রী মৌসুমী ওই বৃদ্ধা মায়ের ওপর চড়াও হয়। লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, স্বামীর তৈরি এই ভিটেবাড়িতে তিনি আর কোনোদিন পা রাখতে পারবেন না। প্রাণ বাঁচাতে বর্তমানে তিনি এক মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃদ্ধা লক্ষ্মী রানী সরকার বলেন, “কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি নিজের গর্ভের সন্তানই একদিন আমার আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।” অবশেষে কোনো উপায় না দেখে বুধবার দুপুরে ছেলে সজল সরকার ও পুত্রবধূ মৌসুমী দাস সরকারের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা মা। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখন দেখার, রাজ্য মহিলা কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে নিজ ভিটেয় বিচার ও অধিকার ফিরিয়ে দিতে কী ভূমিকা নেয়।

Leave a Comment