প্রগতি ত্রিপুরা, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে সোনামুড়া নগর এলাকা। ফলে চরম প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রের ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’। শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় স্থাপিত ডাস্টবিনগুলি দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনায় উপচে পড়ছে, যার প্রভাবে সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও তৈরি হয়েছে চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
একদিকে আবর্জনার স্তূপ থেকে নির্গত হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, অন্যদিকে পথকুকুরেরা সেই নোংরা টেনে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহরে বের হলেই নাকে রুমাল চাপা দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় এক মাস ধরে জমে থাকা এই বর্জ্য পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট পুরকর্মী বা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পচনশীল আবর্জনা বায়ুমণ্ডল বিষাক্ত করে তুলছে। ক্ষুব্ধ নগরবাসীর প্রশ্ন—দেশের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের দূষণমুক্ত ও নির্মল পরিবেশে বসবাস করার মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, অথচ খোদ সোনামুড়া নগর এলাকায় কেন সেই অধিকার এভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে?
অভিযোগ উঠছে, স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ কি তবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছেন না? নাকি আসন্ন নগর পঞ্চায়েত/পুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সমীকরণ ও ঘর গোছাতেই ব্যস্ত তারা?
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সহ প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও বর্তমানে ডেঙ্গুর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় সীমান্ত ঘেঁষা সোনামুড়া শহরের এই বেহাল নিকাশি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরবাসীর প্রশ্ন—সোনামুড়াবাসীর সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়টি আসলে ভাববে কারা?








